প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত এবং প্রত্যেক শিশুর জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৪-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে তার সরকার প্রাথমিক স্তরে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যে বয়স্কদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পূরণে ইতিমধ্যে তার সরকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ও পদক প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মেডেল ও সনদ বিতরণ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আক্তার হোসেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ।
প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল আছেন উল্লেখ করে বলেন, তাদের পেশা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তাই তার সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করেছে। অন্যরাও যেন এই পেশা গ্রহণে আগ্রহী হয়, এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে কাজ করে চলেছে। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে ৯৯ হাজার ১৮১ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখনই সরকারে এসেছি জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে দেশের শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।’ তিনি ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকারের নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকারের উল্লেখ করে বলেন, তখন শিক্ষার উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূিচ গ্রহণ করা হয়। যার ফলে ২০০১ সালে সাক্ষরতার হার ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে । তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার গৃহীত কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেয়। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের অবহেলা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনাহীনতায় শিক্ষার হার নেমে আসে ৪৭ শতাংশে। তবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার আবার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এতে গত পাঁচ বছরে তা পুনরায় শতকরা ৬৫ ভাগে উন্নীত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুধার কারণে শিশুরা স্কুল থেকে চলে যাচ্ছে। তাই সরকার মিড-ডে মিল হিসেবে উন্নতমানের বিস্কুট সরবরাহ শুরু করে। এতে ঝরেপড়া রোধ অনেকটাই কমে গেছে। তাই পর্যায়ক্রমে শিশুদের জন্য প্রতি স্কুলেই মিড-ডে মিল চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে আমরা যখন কাজ করছি তখন বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে জিম্মি করছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, তারা কি চান? এদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষিত হোক, আগামী দিনের নেতৃত্ব শিক্ষিত হোক, এটা কি তারা চান না? নাকি আমাদের শিক্ষার্থীরা মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শিখবে, তাই চান তারা। তিনি বলেন, এ ধরনের নাশকতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড আর ঘটাতে দেয়া যাবে না। যারা ঘটাবে তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এমন নাশকতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড ঘটতে দেখলে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করুন।
প্রত্যেক শিশুর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছুই করবে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারব এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।’
