শ্রীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের দিকে অস্ত্র তাককারী যুবক শাহজাহান ওরফে কামরুলসহ ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে বিজিবি, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে। এদিকে হামলার ভয়ে শ্রীপুর থানার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, পৌর এলাকাসহ উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই প্লাটুন বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে চিহ্নিত অস্ত্রধারীদের আটক করার জন্য সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
উপজেলায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপজেলা সদর ও থানা চত্বরে চার দফা বৈঠক করেছে।
বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মোতালেব অভিযোগ করেছেন, আব্দুল কাদির নামে তার এক কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইকবাল হোসেন সবুজের যে চার দেহরক্ষী প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে এদের মধ্যে কামরুল ও মাসুম খানকে আটক করা হয়েছে। এই কামরুলের ছবি রবিবার ইত্তেফাকসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। আটককৃত অন্যরা হলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কফিল উদ্দিন মন্ডল, উপজেলা যুবলীগ নেতা জুয়েল, সেলিম, শ্রমিক লীগের নেতা ইউসুফ কাজী, ছাত্রলীগ নেতা লিটন, কৃষ্ণ বাসফোর, শিপু, নাজমুল, ইমরান, হুমায়ুন, মোস্তফা, সিরাজ, সোহেল, সাগর, কাদির মন্ডল, মাসুদ, আ: রহিম।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার শ্রীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন সবুজ ও আবদুল জলিলের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গাজীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার শাহনওয়াজ দিলরুবা জানান, সুুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃংখলা বাহিনী বদ্ধপরিকর। তিনি আরো জানান, নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে যে সকল প্রার্থী দাঙ্গা-হাঙ্গামার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তাদেরকে লিখিতভাবে নোটিস করা হবে। এর আলোকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্রীপুরের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী আওয়ামী লীগের উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতাকর্মীদের এই ঘটনার জন্য গভীর দু:খ প্রকাশ করেছেন।
