ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৫
অনন্যা ও রিয়াদ দু’জনই চাকরি করেন। দু’জনই ভিন্ন দু’টি প্রাইভেট কোম্পানিতে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করেন। অফিসের কাজে দু’জনকেই খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অফিসে থাকেন দুজনই। স্বামী-স্ত্রীর বাসায় ফিরতে রাত ৮-৯টা বাজে। সংসারে তারা মাত্র দু’জন সদস্য। ছোট্ট এই সংসারে পথ চলতে গিয়ে তাদের পড়তে হয় নানা সমস্যার মুখে। যেখানে পুরো সপ্তাহের মধ্যে মাত্র একটি দিন দু’জন দু’জনকে কাছে পায় সেখানে সমস্যা তো থাকবেই। সময় সঙ্কটের কারণে দু’জনকে প্রায়ই দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকতে হয়। প্রায়ই সাংসারিক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। শুধু অনন্যা ও রিয়াদের জীবনেই নয়, আমাদের চারপাশের এ রকম অনেকের জীবনে ঘটে চলেছে নানা সমস্যা। ভুল বোঝাবুঝি একটি স্বাভাবিক বিষয়। নিত্য সংসারে ঝুট-ঝামেলা লেগেই থাকে। কিন্তু সমস্যা নিয়ে বসে থাকলে তো আর জীবন চলা সম্ভব নয়। এগিয়ে যেতে হয়, সামনে চলতে হয়। যেখানে সমস্যা নামক শব্দটি রয়েছে সেখানে তার সমাধানও আছে। ঝামেলাগুলো পেছন ফেলে এগিয়ে যাওয়ার এ সংসারে দরকার হয় সমঝোতার। স্বামী-স্ত্রী হলো একজন আরেকজনের পরিপূরক। এদের নিয়েই যত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার গল্প। সংসার জীবনে পথ চলতে গেলে এ দু’জনের মাঝে সুখ যেমন আসে তেমনি দুঃখ-কষ্ট, মান-অভিমানও বিরাজমান। একটি সংসার টিকিয়ে রাখতে গেলে দুঃখ-সুখ দু’টিকেই অবলম্বন করতে হয়। সংসারে দুঃখ-কষ্ট, মান-অভিমান থাকবেই। আর থাকাটাই স্বাভাবিক। যে সংসারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চাকরিজীবী সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মান-অভিমানটা একটু বেশিই থাকে। অন্যদের বেলায় যে হয় না, তা কিন্তু নয়। চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীদের ক্ষেত্রে যেটা হয় সেটি হলো দু’জনকেই অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ব্যস্ততার কারণে কেউ কাউকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না। দেখা গেছে সময় না দিতে পারায় একজন আরেকজনের মাঝে সৃষ্টি হয় নানা ভুল বোঝাবুঝি। অনেক সময় এই ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সমস্যা আরও বড় আকার ধারণ করে। এই বড় আকৃতির ঝামেলা এড়ানোর জন্য কিছু জরুরি বিষয় মনে রাখা আবশ্যক। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে, দু’জনের মাঝে বিশ্বাস শব্দটির পাল্লাটা ভারি রাখতে হবে। জীবন চলার পথে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। বিশ্বাস না থাকলে ভালোবাসাও থাকে না। সংসার জীবনে সুখের ছোঁয়া পেতে বা সুখ জিনিসটাকে বশ করতে হলে দুঃখ-কষ্ট, মান-অভিমানের ব্যাপারকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। স্বামী-স্ত্রী দু’জন দু’জনের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। সংসারে সুখ বয়ে আনতে একজন স্বামী বা স্ত্রীর যা কিছু করণীয় ঠিক তার সবটুকু করতে হবে। আর এভাবে সংসার সুখের জোয়ারে ভাসতে থাকবে। আপনার সঙ্গী যদি তার ভুলগুলো মেনে নিয়ে দাম্পত্যে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায়, তা হলে তাকে সুযোগ দিন। এ ব্যাপারে সাহায্য না করলে আপনিও কিন্তু পরোক্ষভাবে দায়ী এবং তাকে ঠকাচ্ছেন। যে আস্থা নিয়ে তিনি আপনার দিকে হাত বাড়াচ্ছেন, তার যোগ্য সম্মান না দিলে আপনিও কিন্তু আস্থা ভঙ্গের দায় এড়াতে পারেন না। মনে রাখবেন ভুল স্বীকার কিন্তু সহজ কাজ নয়। আপনার সঙ্গী যদি এ কঠিন কাজটি করতে পারে, তবে আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন। নিজেকে কিছুটা সময় দিন। সঙ্গীর বিশ্বাস ভঙ্গ সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়। নিজের ভুলটা কোন জায়গায় তা বের করুন। তার ভুলটাও বোঝার চেষ্টা করুন। শত ব্যস্ততার মাঝেও একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। এক্ষেত্রে দু’জনের ভূমিকাই হবে মুখ্য। সময় দেওয়ার ব্যাপারে দু’জনকে থাকতে হবে সদা বদ্ধপরিকর। চলার পথে কেউ কারও ভুলত্রুটি খুঁজে পেলে সেক্ষেত্রে দোষ চাপিয়ে না দিয়ে বা জবাবদিহিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি না করে তা আলোচনার মাধ্যমে শুধরে নেওয়াই শ্রেয়। অফিসে থাকা অবস্থায় অবসর পেলে একে অন্যের খোঁজখবর নিয়ে নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতার ভাবটি বাড়িয়ে দেওয়া যায়। এতে ভালোবাসার পরিমাণটাও বেড়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যেন কেউই অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে এসে না করে। এতে দু’জনের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা থাকতে পারে; তাই অফিসের কাজ অফিসে করাটাই উত্তম। সব কাজ শেষ করে একে অন্যের সাথে গল্পের মাধ্যমে বা টিভি দেখার মাধ্যমে অথবা গান শোনার মাধ্যমে কিছুক্ষণ বিনোদনের মুহূর্ত পালন করলে সারাদিনের ব্যস্ততার তিক্ত মুহূর্তগুলো সুখকর হয়ে উঠবে।