দেশীয় কাপড়ের তৈরি পোশাককে বর্তমান সময়ের ফ্যাশনেবল তরুণ-তরুণীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে অঞ্জন’স তাদের যাত্রা শুরু করে। তাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই ফ্যাশন হাউসটি দেশি কাপড়ের তৈরি শাড়ি, থ্রিপিস ও পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাকের জন্য দেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফ্যাশন হাউস হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ওয়ারীতে থাকা তাদের আউটলেটটি সেজেছে নতুন সাজে। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
নতুন ঠিকানাটা একটু টুকে নিতে পারেন। আগে যেখানে ছিল, ঠিক তার সামনেই সেজেছে নতুন অঞ্জন’স। এবার দু’তলা মিলে। আপনার রুচিশীলতার প্রকাশ আগেও যেমন পেয়েছেন অঞ্জন’সের অন্দরে, এবারও তার কমতি হবে না।
অঞ্জন’স মূলত নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা—এসব জায়গার তাঁতীদের দ্বারা কাপড় তৈরি করে থাকে। প্রতিটি অঞ্চলেই উদ্যোক্তা এবং একজন করে ডিজাইনের কারিগর রয়েছেন। কয়েকটি ধাপে তৈরি হয়ে আসে পোশাক। প্রথমে বাজেট তৈরি করা হয়। তারপর বাজেট অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের কাপড়ের অর্ডার এবং ডিজাইন দিয়ে দেওয়া হয়। ডিজাইন কারিগর তাঁতীদের তাঁতে সেই ডিজাইন তুলে দেন। এভাবে অর্ডার অনুযায়ী কাপড় তৈরি হয়ে আসে। অঞ্জন’স মূলত সুতি এবং রাজশাহী সিল্ক নিয়ে কাজ করে।
উত্সবের রঙে ফ্যাশনপ্রিয়দের স্টেটমেন্টে যুক্ত হয় ট্র্যাডিশনাল বা পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাক। প্যাটার্ন বৈচিত্র্যে এবং সুতি কাপড়ে প্রাধান্য পেয়েছে ব্লক ও স্ক্রিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির কাজ। ঋতুর রং বৈচিত্র্যের কারণে ক্যাজুয়াল ও পার্টি ওয়্যার হিসেবে অঞ্জন’সের এই ট্রেন্ডি পোশাকগুলো দিবে ভাইব্র্যান্ট লুক। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, লং ফতুয়া ও শিশু-কিশোরদের জন্য সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাড়ি পাওয়া যাবে এ আয়োজনে। বসন্ত উত্সবকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পোশাকের দাম রাখা হয়েছে চার শ থেকে দু’হাজার নয় শ টাকার মধ্যে।
অঞ্জন’স আয়োজন করেছে নানারকম উপহারের। জামা-জুতো ছাড়াও এখন ঘর সাজানোরা নানা পণ্য পাওয়া যায়। বিছানার চাদর-পোলো কাভার-মাদুর এমনকি জানালা-দরজার পর্দা পর্যন্ত দিতে পারেন উপহার হিসেবে। যারা নতুন সংসার গোছাচ্ছেন তাদের জন্য এই উপহারগুলো হতে পারে কাঙ্ক্ষিত।
অঞ্জন’সে মেটাল, সিলভার, উডসহ বিভিন্ন ম্যাটারিয়াল দিয়ে তৈরি হয়েছে হ্যান্ড মেইড জুয়েলারি। পোশাকের সঙ্গে মানানসই চুড়ি, আংটি, নেকলেস, চেইন, ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন জুয়েলারি পাওয়া যাবে সাধ্যের মধ্যেই। শিশু-কিশোরদের ডিজাইনেও বড়দের পোশাকের মতো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট ও সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাবে।
শাহীন আহমেদের মতে, ডিজাইনাররা সব সময়ই ডিজাইনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন চান। এক ডিজাইন নিয়ে বেশিদিন কাজ করলে ক্রেতাদের পাশাপাশি ডিজাইনারদেরও একঘেয়েমি চলে আসে। ফলে আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে মাথায় রেখে নতুন নতুন ডিজাইন এই একঘেয়েমি দূর করতে হবে। তারপর সময় উপযোগী পোশাক তো রয়েছেই। যেমন এ সময়ের ফ্যাশন ট্রেন্ড হচ্ছে ডিজাইনের দিক থেকে সেমিলং হালকা কাজ করা পোশাক। ফলে অঞ্জন’সের পোশাক সম্ভারে হাল ফ্যাশনের এ পোশাকগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।
এ ক ন জ রে
কোথায় :২৮, র্যাংকিন স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা
ফোন :৯৫৭৩৫৩৭
কবে যাবেন :শুক্রবার ছাড়া যেকোনো দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
বিশেষত্ব :প্রতিটি উত্সব, ঋতু এবং বিশেষ বিশেষ দিন উপলক্ষে অঞ্জন’স উপহার দিয়ে থাকে বৈচিত্র্যময় পণ্যসম্ভার। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রেখে ক্রেতাদের চমকে দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
