নানা ধরনের মাথাব্যথা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৭
সারাদিন অফিসে আর আউটডোরে কাজ করে বাড়িতে ফিরলেন দৃশ্যতই বিধ্বস্ত হয়ে। বাড়ি ফিরে বাচ্চার আবদার, স্বামীর বায়না সামলাবেন কী আপনি নিজেই মাথা তুলতে পারছেন না। কিন্তু মাথাব্যথা করছে বলে তো আর ব্যক্তিগত জীবন থেমে থাকবে না। অগত্যা পেইন কিলারে ভরসা। মাথাব্যথা উধাও আর আপনি মনে মনে পেইন কিলারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন! কিন্তু কখনও ভেবেছেন কি মাথাব্যথার কারণটা ঠিক কী? নিজের জীবনব্যবস্থায় একটু আধটু অদল-বদল করে সুফল পেতে পারেন। ডাক্তারের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধ খেলেই মুশকিল আসান? না ভেবে থাকলে এখন ভাবুন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা থেকে শুরু করে ব্রেন টিউমার বা মেনিনজাইটস—মাথাব্যথার কারণ হতে পারে অনেক। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মাথাব্যথা হতে পারে। মাথাব্যথার সমস্যা ও সমাধান মাধাব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে সবথেকে কমন হলো মাসকুলার হেড্যাক বা সাধারণ ভাষায় মাইগ্রেন। মাইগ্রেনের অনেক কারণ থাকতে পারে। সিজন চেঞ্জ, হঠাত্ করে চড়া রোদে ঘুরে বেড়ানো, খুব টেনশনে থাকলে মাইগ্রেন হতে পারে। তবে মাইগ্রেন একজন সুস্থ মানুষকে বেজায় ভোগালেও জীবন নিয়ে কখনওই টানটানি হবে না। তবে একজন সাধারণ মানুষ যদি মাথাব্যথায় ভোগেন, তাহলে তিনি বুঝবেন কী করে এর কারণটা কী? ফলে প্রথমেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিজের মাথাব্যথার ইতিহাস খুলে বলুন। প্রয়োজনে তিনি আপনাকে মাথার স্ক্যান করাতে বলবেন। কয়েক ধরনের ব্ল্যাড টেস্টও করতে বলতে পারেন। এমন হতেই পারে আপনার মাথাব্যথা হচ্ছে ও আপনি জটিল কোনো কিছু আশঙ্কা করছেন। কিন্তু দেখা গেল মাথাব্যথার কারণ ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল নেওয়া। পিল বন্ধ করলেই মাথাব্যথা কমে যায়। ফলে বেসিক মেডিক্যাল হিস্ট্রি জেনে নেওয়া ভালো। যদি বোঝা যায় যে কোনো ওষুধের সাইড অ্যাফেক্ট নেই বা স্ক্যানেও বিশেষ কিছু ধরা পড়ছে না, তখন মাইগ্রেনের কথা ভাবা যেতে পারে। মাইগ্রেনের দু রকমের চিকিত্সা হয় : প্রিভেনটিভ আর এসওএস। ব্যথা যাতে না হয়, সেজন্য কিছু ওষুধ নিয়ম করে খেতে হয়। আর মাঝেমধ্যে ব্রেক প্রু পেন হলে সেজন্য আলাদা কিছু খেতে দেওয়া হয়। এরসঙ্গে লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের কথা বলা হয়। যেমন রাতে ঘুমানোর আগে টিভি দেখবেন না, টেনশন নেবেন না ইত্যাদি। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব থাকলে নিউরোসার্জেনের পরামর্শ নিন। হতে পারে টিউমারের কারণে ব্যথা হচ্ছে। সেজন্য অপারেশন বা রেডিও থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। ব্রেন টিউমার কিছুটা জিনগত। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা হলে পরীক্ষা করে নিতে হবে কোনো সেরিব্রাল ইনফেকশন হয়েছে কি না। স্ক্যান করাতে হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। এছাড়াও অবশ্য মাথাব্যথার আরও কারণ আছে। চোখের পাওয়ার বেড়ে গেলে, মেনিনজাইটস, ব্রেনটিউমার এমনকি কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও মাথাব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট ওষুধটি বন্ধ করে না দেওয়া গেলেও বদলে দেওয়া যেতে পারে। সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে বসে কাজ করতে করতে মাথাব্যথা হওয়াটা আমাদের রোজকার ঘটনা। টেনশন হেড্যাক থেকে দূরে থাকতে কম্পিউটার ও চোখের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখুন। কম্পিউটারে অ্যান্টি গ্লেয়ার কাটিং লাগিয়ে নিন। ঘনঘন মাথাব্যথা হলে স্ট্রেস ম্যানেজ করার জন্য ওষুধ খেতে হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে যারা মাথাব্যথায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কারণ খুব সম্ভবত মাইগ্রেন। সেরিব্রাল ইনফেকশন বা ব্রেন টিউমার হলে এত দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হতো না। মাথাব্যথা হলেই আমরা এক আধটা পেইন কিলার খেয়ে ফেলি। এটি আদৌ কোনো ভালো অভ্যাস নয়। তবে মাইগ্রেন থাকলে মাইগ্রেন স্পেসিফিক ওষুধ খাওয়াই ভালো। পেইন কিলার না খেয়ে লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনুন। অ্যালকোহল মাথাব্যথা বাড়িয়ে তোলে। তেলমশলা জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না। বেশি রাত করে ডিনার করার অভ্যাস ছাড়তে হবে। কিছু কিছু খাবার যেমন চিজ মাথাব্যথা বাড়িয়ে তোলে। ডিস্কোথেক বা লার্জ টিভি স্কিনের কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা হয়। লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট  লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন ওবিসিটি, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস।  স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট করা খুব জরুরি। এর জন্য প্রতিদিন যোগাসন, প্রাণায়াম ও ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। আর কিছু না করতে পারলে সকাল-সন্ধ্যা হাঁটার অভ্যাস করুন। অফিসের কাজের মাঝে অল্প স্বল্প ব্রেক নিন।  ব্যালেন্স ডায়েট করা খুব জরুরি। রোজকার ডায়েটে ফল, সবজি আর প্রচুর পরিমাণে জল রাখুন।  দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার ফলে মাথাব্যথা হলে মাঝে-মধ্যে ব্রেক নিন। চোখের জন্য সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিন। প্রয়োজনে তিনি চোখের পাওয়ার বদলে দেবেন।  মাথাব্যথা হলেই যখন তখন একটা পেইন কিলার ট্যাবলেট খেয়ে নেবেন না। সাময়িক আরাম হলেও লং টার্ম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।