সিঁড়ি সাজানোর কাব্য!

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৮
কারও ঘরে পা রেখেই প্রথম দৃষ্টি পড়ে সিঁড়িতে। ধাপে ধাপে ওপরে ওঠা এ সোপানগুলো বেয়েই আমরা পৌঁছে যাই শান্তির নীড়ে। সিঁড়িতে যদি থাকে নান্দনিকতার ছোঁয়া তাহলে গোটা বাড়ির সৌন্দর্যই যেন বদলে যায়। এক সিঁড়ির কল্যাণেই আপনার বাড়ির নকশায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বহু আগে থেকে বাসার সিঁড়ির আলাদা কদর রয়েছে। কারুকার্যময় নান্দনিক সিঁড়ি আপনার রুচিশীলতা প্রকাশ করে। রং এবং নকশায় এতে নানা ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারেন। লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র আজকাল মানুষের রুচি বদলে গেছে অনেক। সেই রুচির চাহিদা মেটাতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নান্দনিক ডিজাইনের বিভিন্ন ধরনের টাইলস। সিঁড়িতে টাইলসের ব্যবহার একদিকে যেমন সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে রুচির পরিচয়ও বহন করে। এ ধরনের টাইলসের সিঁড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটাও অনেক সহজ। আভিজাত্য ও রুচির প্রকাশ ঘটাতে ভাস্কর্য বা পুতুলের কোনো বিকল্প নেই। আপনার বাড়ির সিঁড়ি সাজাতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন শ্বেতপাথরের ভাস্কর্য এবং রাজস্থানী পুতুল। অবশ্য এজন্য আপনাকে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। সিঁড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে আপনি অনায়াসে ইনডোর প্ল্যান্ট কাজে লাগাতে পারেন। বাহারি ফুল গাছ, বনসাই লাগিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ফুলের সুবাসে বাড়িতে সুরভিত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন। ইনডোর প্ল্যান্টের সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, তা হলো ফুল গাছের টবগুলোর আউটলুক যেন বেশ ভালো এবং দৃষ্টিনন্দন হয়। শুধু সিঁড়ি সুন্দরভাবে সাজালেই চলবে না। এর হাতলও হতে হবে দৃষ্টিনন্দন। সেখানেও নানা সাজের বাহারি চমক থাকতে হবে। তাই বাড়ির সিঁড়ির হাতলে টেকসই পলিশড কাঠ লাগাতে পারেন। এর মাধ্যমে চমত্কার আভিজাত্য ফুটে উঠবে। যে কাঠ সিঁড়ির হাতলে ব্যবহার করবেন তা ভালোভাবে দেখেশুনে যাচাই করে নেবেন। অপেক্ষাকৃত কম দামের জন্য বাজে কাঠ সিঁড়িতে ব্যবহার করলে তার স্থায়িত্ব হবে অনেক কম। পেইন্টিংসের প্রতি মানুষের অন্যরকম আকর্ষণ থাকে। যেকোনো ধরনের পেইন্টিংস বিশেষ ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। পেইন্টিংস যেখানেই ঝোলানো থাক না কেন, সিঁড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে আপনার বাড়ির সিঁড়িতে ছোট-বড় নানা সাইজের পেইন্টিংস ঝোলাতে পারেন। এটা আপনার বাড়ির সিঁড়িকে অনেক বেশি গর্জিয়াস করে তুলতে পারে খুব তাড়াতাড়ি। এর মাধ্যমে আপনি আপনার মনের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সিঁড়ির সাজে আলো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিঁড়ির সাজে খেয়াল রাখুন প্রত্যেকটি জিনিসের সঙ্গে যেন আলোর সংযুক্তি থাকে। সিঁড়ির ল্যান্ডিং স্পেসে ঝুলন্ত বা বড় রঙিন ঝাড়বাতি ব্যবহার করতে পারেন। সিঁড়ির কোনায় কোনায় নানা শেডের ল্যাম্প রাখা যেতে পারে। সন্ধ্যায় সিঁড়িতে বড় আলো বন্ধ করে শুধু শেডের ল্যাম্পের আলো জ্বেলে দিতে পারেন, যা অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করবে। বাড়িতে কোনো উত্সব-অনুষ্ঠানে সিঁড়ির কোনায় মাটির পাত্রে পানি দিয়ে তাজা ফুলের পাপড়ি রেখে মাঝে দু’একটি জ্বলন্ত মোম দিয়ে দিন। সিঁড়ি সাজানোর পর এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর ভালোভাবে নজর রাখুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই আপনার সিঁড়ির সাজগোজের ওপর বাড়তি চমক এনে দেবে, যা অন্যদের অনেক সহজেই আকৃষ্ট করবে।