চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক যখন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী, তখন পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে গবেষণা। এবারে যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি একসাথে এই ৫জি নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নিয়োজিত থাকবেন এই গবেষণায়। গতকাল জার্মানির হ্যানোভারে শুরু হওয়া ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘সিবিট ২০১৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। ইউরোপের সেরা এই প্রদর্শনীর এবারের আয়োজনে ‘পার্টনার কান্ট্রি’ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাজ্য। উদ্বোধনী বক্তব্যে ক্যামেরন মূলত এবারের প্রদর্শনীর মূল তিনটি বিষয় তুলে ধরেন। এগুলো হলো—৫জি নেটওয়ার্ক ও এর সম্ভাবনা, ইন্টারনেট অব থিং ও এর বাস্তবায়ন এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নের ডিজিটাল পণ্যের বাজারকে শক্তিশালী করে তোলা। জার্মান চ্যান্সেলর অবশ্য তার বক্তব্যে এবারের প্রদর্শনীর মূল থিম তথ্যের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার প্রতিই সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পণ্যের উপর মানুষের যে নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণের জন্যও আহ্বান জানান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ৫ দিনের এই প্রদর্শনীতে ৭০টি দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন নিয়ে। স্যামসাং, মাইক্রোসফট, আইবিএম, হুয়াওয়ের মতো শীর্ষ সব প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এতে। ডিজিটাল সিকিউরিটির উপর জোর দেওয়া এই প্রদর্শনীতে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান শুধু ডিজিটাল সিকিউরিটির সাথে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার খবরও উঠে আসছে এই প্রদর্শনীতে। ইতোমধ্যেই প্রদর্শনীতে আগত বেশকিছু মানবাকৃতির হিউম্যানয়েড রোবট মনোযোগ আকর্ষণ করেছে দর্শনার্থীদের। নতুন নতুন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি এবং অন্যান্য মোবাইল ডিভাইসের ভিড়ও লক্ষণীয়। পাশাপাশি ক্লাউড বিষয়ক বিভিন্ন সেবার উপস্থিতিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।
