৩৪ পয়েন্টে ওয়াসার পানি পরীক্ষার নির্দেশ

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ০০:২৫

ঢাকার ৩৪টি পয়েন্ট থেকে ওয়াসার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ গঠিত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

আদালত বলেন, এসব পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত ওয়াসার পানি আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি), বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসোলেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরে মোট এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ওয়াসাকে প্রদান করতে বলা হয়েছে।

এর আগে আদালতে পানি পরীক্ষার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান। তিনি বলেন, পানি দূষিত-এমন ঢালাও অভিযোগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে সুপেয় পানিতে কোনো রকম রং, গন্ধ বা অস্বচ্ছতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সুপেয় পানি প্রাপ্তি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এসব লক্ষণ থাকলে অভিযোগ কেন্দ্রে আনা পানির নমুনা চূড়ান্তভাবে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

তিনি বলেন, পানিতে ময়লা দেখা গেলে বা ঘোলা থাকলে সেটা পরীক্ষার দরকার নেই। সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, এমন পরিষ্কার পানি পরীক্ষার বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় নিতে হবে। এরপরই হাইকোর্ট ওয়াসার পানির চারটি উত্স (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূমিস্থ), দশটি বিতরণ জোন এবং গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, রিটকারী পক্ষে তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সাবিতা রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, আজকে যে পানি সুপেয়, সেটা নানা জটিলতার কারণে দুই দিন পরে সুপেয় নাও থাকতে পারে। সে কারণে একবার পরীক্ষা করে পানির বিষয়টি সমাধান করা যাবে না।