পুঠিয়ায় বড় দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কর্মীরা বিভক্ত

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ২১:৩০
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে টানাপোড়েন চলছে। উভয় দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পর নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠ দখলের লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন। দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে নিতে নেতারা কষছেন নানা ছক। এনিয়ে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত আল মামুন খান (ঘোড়া), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা (আনারস), আওয়ামী লীগ সমর্থিত আহসানুল হক মাসুদ (দোয়াত-কলম), বিদ্রোহী শাহরিয়ার রহিম কনক (মোটরসাইকেল) ও মর্জিনা বেগম সরি (উড়োজাহাজ) এবং জাপা (এ) সমর্থিত আনসার আলী (কাপ-পিরিচ); পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আব্দুল হান্নান (বই), ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত আহমাদ উল্লাহ (তালা) ও স্বতন্ত্র মোঃ ওয়াসিম (টিউবওয়েল); মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত মতিয়া হক (প্রজাপতি) ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আকলিমা বেগম (কলস) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় পুঠিয়ার বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিয়ে চলছে নাটক-পাল্টা নাটক। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিএম হীরা বাচ্চু জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুঠিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ঘোষণার জন্য বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। পুঠিয়া পিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তৃণমূলের ৬৭ নেতার ভোট পাওয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আহসানুল হক মাসুদকে দলীয় সমর্থন দেয়া হয়। ওই সভায় ৬৬ ভোট পেয়ে মাসুদের কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মালেক মাস্টার। ভোটে হারার পর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক জহুরুল হক পলান দাবি করেন, তৃণমূলের বিতর্কিত ভোটে আওয়ামী লীগ নেতা আহসানুল হক মাসুদ নির্বাচিত হওয়ায় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তি দেখা দেয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে শাহরিয়ার রহিম কনক ও মর্জিনা বেগম সরি মাঠে নামেন। তিন নেতার পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। সূত্র জানায়, দলের তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের বিভক্তি ঠেকাতে আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারার দু’দফা সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।