‘আমাদের ভুলগুলো বাদ দিতে হবে’

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৫
ইনজুরির কারণে ঘরের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। নিজে বারবার বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপ না খেলার দুঃখ কোনো কিছু দিয়ে ভোলা সম্ভব না; টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে তো নয়ই। তারপরও দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে রোমাঞ্চিত মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের শরীরের অবস্থা ও দলের অবস্থা এখন মাঠে নেমে পড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলেই গতকাল বললেন দেশসেরা এই পেসার— শরীরের কী অবস্থা এখন? আগের থেকে ভালো। শেষ তিন দিন দশ ওভারের মতো বোলিং করেছি নেটে। আগের থেকে ভালো অনুভব করছি। প্রথম দিন যখন ব্যথা পেয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেকটা কমেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবে কিনা? যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তো খেলতেই হবে। আমি মানসিকভাবে সে রকম প্রস্তুত হচ্ছি। দলের প্রয়োজনে যেকোন সময় আমি খেলতে প্রস্তুত। এশিয়া কাপের শেষ দিকে যখন খেলতে পারলেন না, বুঝতে পেরেছেন যে দলে আপনার অভাবটা টের পাওয়া গেছে? না, আমি অভাব বলবো না। যারা আছে তাদেরকে আমি আমার চেয়ে বড় করে দেখি। আমি বিশ্বাস করি যারা ন্যাশনাল টিমে খেলে তারা অবশ্যই ভালো। সবার আলাদা দক্ষতা বা যোগ্যতা আছে। আমি বিশ্বাস করি যারা বাংলাদেশ টিমের জার্সি গায়ে দেয়; তাদের একটা দায়িত্ব থাকে দলকে জেতানোর। আমি তাদের মিস করেছি, কিন্তু আমাকে দল মিস করেছে কি না, এটা বলতে পারবো না। এই ফরম্যাটে আপনার বোলিংয়ের পাশাপাশি বিস্ফোরক ব্যাটিংটারও দরকার হতে পারে। তো ব্যাটিং এর জন্য কোন কাজ করেছেন কি? হ্যাঁ প্রস্তুতি তো নিচ্ছিই; দরকার হলেই সেটা করবো। তবে আমি আশা করি আমার পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে আসা লাগবে না। তারপরও যদি আশা তাহলে আমি আমার সাধ্য মতো ব্যাটিং করার চেষ্টা করবো। আপনাদের এই বিশ্বকাপে লক্ষ্যটা কী? সত্যি কথা বলতে কি, ১৬ তারিখে আমাদের যে প্রথম ম্যাচটা আছে সেটা আমাদের জিততে হবে। এমন না যে, পরেরগুলো হারলেও চলবে। তাদের সঙ্গেও জিততে হবে। সেকেন্ড রাউন্ডে যাওয়াটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় রাউন্ডে যদি যেতে চাই তাহলে আমাদের আরো ভালো খেলতে হবে। কারণ দ্বিতীয় রাউন্ডে জেতে হলে প্রথম তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতেলে আমদের আত্মবিশ্বাসটা আরো ভালো হবে। আমার মনে হয় খেলার ধরনটা আরো বেশি ভালো হবে। যখন বড় টিমের সঙ্গে খেলবো তখন আলাদ রকম একটা জিনিস তো কাজ করবেই। আফগানরা ছাড়া অচেনা দুটি দল আছে; তাদের সর্ম্পকে কোন ধারণা আছে? অবশ্যই এটা বিশ্বকাপ ম্যাচ। শুধু বিশ্বকাপ না যে কোন ম্যাচের আগে তাদের সর্ম্পকে আলোচনা হয়। ইনজুরির কারণে দেশের মাটিতে তিন বছর আগে বিশ্বকাপ হয়েছিলো তখন খেলতে পারেননি। সেই দুঃখ কী এখানে ভুলতে পারবেন? ২০১১ ছিলো পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ। টি-টোয়েন্টি তো একেবারেই আলাদা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে সে অভাব কী মেটানো যায়! আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে আমরা দেশের মাটিতে খেললে বিশেষ করে আমরা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকি কিন্তু আফগানিস্তানের সঙ্গে কি সেটা সম্ভব? আফগানিস্তানের এর আগে যতটুকু খেলা দেখেছি যে, ওরা বেশি শটস খেলতে পছন্দ করে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ওদের বেশি সুট করে। আমিও মনে করি শেষ দুটা মাস আমাদের খারাপ গেছে। সবাই ফলাফলটা দেখতে চায়। ফলাফল আমাদের ছিলো না। আমাদের কাজ হল, যেই ভুলগুলো করেছি সেগুলো বাদ দেয়া। আশা করি আমরা পারবো ভুলগুলো বাদ দিয়ে ভালো কিছু করতে।