ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার বৃহত্তম পাটকল পূবালী জুটমিল গত শনিবার মিল কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেইসাথে মিলের প্রায় ১৪শ শ্রমিক কর্মচারীকে ছাটাই এবং ২শ কর্মকর্তাকে টারমিনেশন দিয়েছে। গত বছর ৩০ নভেম্বর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবং মিলের কাঁচামালের উচ্চমূল্য, উত্পাদন স্বল্পতা এবং উত্পাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ার কারণ দেখিয়ে ১৪ দিনের জন্য মিল কর্তৃপক্ষ সিবিএ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে মিলটি লে-অফ ঘোষণা করে। পরে কোন নোটিস ছাড়াই কর্তৃপক্ষ লে-অফের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে থাকে। দৈনিক ২৪ টন উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২শ তাঁতের পূবালী জুটমিলটিতে প্রায় ১৪শ শ্রমিক-কর্মচারী ও ২’শ কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। জানুয়ারির প্রথমদিকে মিল খোলার জন্য শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ সিবিএ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসে মিলে ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা কাজ করার প্রস্তাব দিলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাতেও সম্মতি প্রদান করলে কর্তৃপক্ষ মিল খোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নানা বাহানা করে লে-অফের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে থাকে।
৩ মাস লে-অফ থাকার পর গত শনিবার কর্তৃপক্ষ মিলগেটের নোটিস বোর্ডে চিরতরে মিল বন্ধের ঘোষণাপত্র টাঙ্গিয়ে দেন। সেইসাথে শ্রমিক কর্মচারীদের ছাঁটাই এবং কর্মকর্তাদের টারমিনেশন দেয়। মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন জানান, কোন কারণ ছাড়াই কর্তৃপক্ষ মিল বন্ধ করে দিয়েছে। লে-অফ থাকা অবস্থাতেই কর্তৃপক্ষ মিলে থাকা প্রায় ৮-১০ কোটি টাকার উত্পাদিত পাট পণ্য বিক্রি করলেও মিল খোলার কোন ব্যবস্থা করেনি। কর্তৃপক্ষ মিলটি বিক্রি করার পাঁয়তারা করছে। মিল মালিকের দালাল হিসাবে পরিচিত এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এনে মিলটি বিক্রি করার জন্য দেখাচ্ছেন। ৩ মাস যাবত মিল লে-অফ থাকার দরুণ এবং একেবারে মিল বন্ধের নোটিন পেয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অনেক শ্রমিক, রিক্সা চালিয়ে দিনযাপন করছেন। মিল বন্ধের কারণে শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। মিলের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আলতাফ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার কো-অপারেটিভ জুটমিলটিও কর্তৃপক্ষ আগামী মে মাস পর্যন্ত চালু রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছে। মে মাসে মিলটি বন্ধ হয়ে যাবে এমন খবরে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
