দেখা হয় নাই

কালভৈরব মন্দির

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২০:৫২
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালভৈরব মন্দির-এর কথা। কালভৈরব মন্দির বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত অন্যতম ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। মূলত হিন্দু ধর্মের অন্যতম দেবতা শ্রীশ্রী কালভৈরবের বিগ্রহকে কেন্দ্র করেই স্থাপিত হয় এই মন্দিরটি। অনেকের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি বা বিগ্রহ হলো এই শ্রীশ্রী কালভৈরব। সুবিশাল এই বিগ্রহটির উচ্চতা ২৮ ফুট এবং নান্দনিক এই বিগ্রহটি ১৯০৫ সালে স্থাপিত হয়। কথিত আছে যে, কাশীশ্বর দেবাদিদেব মহাদেব একদিন নিজ শরীরের অংশ থেকে কালভৈরবের সৃষ্টি করেন এবং তার প্রতি কাশীধাম রক্ষার ভার প্রদান করেন। কালীশ্বর শ্রীশ্রী কালভৈরবের আবির্ভাবের পর স্বপ্নে আদেশ পেয়ে স্থানীয় দূর্গাচরণ আচার্য মাটি দিয়ে নির্মাণ করেন এই অতি বিরাটাকার কালভৈরবের বিগ্রহটি। তিনি ছিলেন ফুলবাড়িয়া গ্রামের স্থায়ী অধিবাসী এবং প্রখ্যাত মৃন্ময়মূর্তি প্রস্তুতকারক শিল্পী। এছাড়াও, তিনি মূর্তির পাশে নির্মাণ করেন শিবের স্ত্রী পার্বতীর মূর্তি। দূর্গাচরণ প্রথমে তিতাস পঞ্চবঢী মূলে বিগ্রহটি স্থাপন করে পূজার্চনার ব্যবস্থা করেছিলেন। জানা যায়, কালভৈরব মন্দিরের স্থানটি সরাইলের বিখ্যাত জমিদার নূর মোহাম্মদ দান করেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর প্রতিষ্ঠার পূর্বে মেড্ডা ছিল তিতাস তীরবর্তী বাজার। এই মন্দিরের মূল কালভৈরবের বয়স প্রায় তিন শ বছর। শহরের উত্তর সীমানায় শান্ত তিতাস নদীর পশ্চিম পাশে মেড্ডা গ্রামের এই জায়গা তখন ছিল পঞ্চবটের জন্য বিখ্যাত। সেখানেই পঞ্চবটির মূলে স্ব-মহিমায় আবির্ভূত হন কালীশ্বর শ্রীশ্রী কালভৈরব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর ডিনামাইটের আঘাতে কালভৈরবের শিব ও পার্বতী মূর্তির অনেকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বরেণ্য দার্শনিক ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজের অনুপ্রেরণায় ও স্থানীয় কর্মীদের নিরলস কঠোর প্রচেষ্টা এবং সর্বস্তরের জনগণের সাহায্য ও সক্রিয় সহযোগিতায় ২৪ ফুট উঁচুবিশিষ্ট উপমহাদেশের বিশালতম এই কালীশ্বর শ্রীশ্রী কালভৈরবের বিগ্রহ ও মন্দির পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর বাংলা সালের ফাল্গুনী শুক্লা সপ্তমী তিথিতে চার দিনব্যাপী পূজা, হোমযজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠা উত্সব। অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পূজা অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পূজারীরা ভিড় জমান। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটকও এখানে ভিড় করেন এ সময়। উত্সবকে ঘিরে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ও বহু দর্শনার্থী ও পূজারী এখানে ভিড় করেন।