মুসলিম আইন
এ. এস. এম সাইফুল্লাহ্
সহকারী অধ্যাপক আইন বিভাগ
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী, আজকে আমরা মুসলিম আইনের ১টি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো।
মুসলিম আইন
প্রশ্ন-মুসলিম আইনানুসারে বিবাহের উদ্দেশ্য কি? বাতিল ও ফাসিদ বিবাহের আইনগত ফলাফলসমূহ আলোচনা কর।
সমস্যা : কালাম নামের এক হানাফী মুসলমান তার এক স্ত্রী বর্তমান থাকাবস্থায় আরতি নামে এক হিন্দু মহিলাকে বিবাহ করে। এই বিবাহে তার প্রথম স্ত্রী সম্মতি দেয়নি। তাছাড়া এই বিবাহ প্রচলিত আইনানুযায়ী নিবন্ধিতও হয়নি। এই বিবাহের বৈধতা পরীক্ষা করে এর ফলাফল বর্ণনা কর।
ভূমিকা : অপবিত্রতা এবং ব্যভিচার হতে মানুষকে রক্ষা করা তথা সন্তান উত্পাদন ও যৌনসঙ্গম বৈধকরণের উদ্দেশ্যে বিবাহ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আদিষ্ট হয়েছে। আইনগতভাবে একে একটি দেওয়ানি চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও ধর্মীয় ও কর্তব্যবোধ এতে বিদ্যমান। তাই, কেবল আইনগত দিক হতে নয়(সামাজিক ও ধর্মীয় দিক হতে এর গুরুত্বও বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। সাথে সাথে বৈধ বিবাহের উপাদান ও বিভিন্ন প্রকার বিবাহের মধ্যে পারস্পরিক পার্থক্যের মাধ্যমে প্রত্যেকের স্ব-স্ব বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা মূর্তমান হয়ে উঠে।
মুসলিম আইনে বিবাহের উদ্দেশ্য : মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহ একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয় বরং দেওয়ানি চুক্তি। এই চুক্তির ফলে সৃষ্ট যাবতীয় অধিকার ও দায়-দায়িত্ব চুক্তি হওয়া মাত্র উদ্ভূত হয়।
বিবাহ হলো নারী এবং পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম ‘বন্ধন’। এ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী মানবসন্তান সমাজে বৈধ স্বীকৃতি পায়। বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা যদি আদি মানবের ইতিহাস বা পৃথিবীতে মানুষের আগমনের কথা জানতে চাই তা হলে দেখতে পাই যে, পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী হলেন হযরত আদম (আ) ও হাওয়া (আ)। তাঁদের বন্ধন বা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটেছে এবং আজ পৃথিবীতে বাস করছে সাড়ে ছয়শত কোটি মানুষ। সেই প্রাচীন রীতির আলোকে মানুষ তার জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য এবং বৈধ পন্থায় জন্ম দানের জন্য বিবাহের রীতি আজও বহাল আছে এবং যুগযুগব্যাপী সভ্য সমাজে বহাল থাকবে।
বিবাহ নারী পুরুষের মধ্যে নিজ নিজ অধিকার সৃষ্টি করে থাকে। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর মধ্যে চুক্তি হয়ে থাকে এবং উক্ত চুক্তির ফলস্বরূপ একজন পুরুষ এবং একজন নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরস্পরের দায়দায়িত্ব পালন করে। বিবাহের ফলে সন্তান জন্ম হলে তার সাথে স্বামী-স্ত্রী অর্থাত্ যারা এ সন্তানের পিতা-মাতা এসব ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পরস্পরের অধিকার সৃষ্টি হয়। বিবাহ ছাড়া সন্তান জন্ম নিলে এ সন্তানের পিতামাতার বিবাহ সামাজিক স্বীকৃতির অভাবে আইনগত অবস্থান থাকে না। নারী এবং পুরুষ এই দুইজন একে অন্যের স্ত্রী এবং স্বামী হিসাবে গ্রহণ করে তারা বিবাহিত দম্পতি হিসাবে বিনা বাধায় দিনযাপন করতে পারে।
বিবাহের জন্যই কারও স্বামী অন্যের স্বামী এবং কারও স্ত্রী অন্যের স্ত্রী বলে সমাজে স্বীকৃতি পেতে পারে না। বিবাহ সামাজিক জীবনে নারী পুরুষের মিলন নির্দিষ্ট করে। তাই সামাজিক জীবনে নারী পুরুষের ভিতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিবাহ প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষের ভিতর মিলনের ব্যবস্থা না থাকলে তাদের ধারাবাহিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত হয়ে বিশৃঙ্খলার অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করা যেত না। এ কারণেই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। পৃথিবীর যেকোনো সমাজে বা যেকোনো ধর্মে বিবাহ মহান স্রষ্টার এক বিশেষ অনুগ্রহ। পরবর্তী অংশ আগামীকাল
