বাংলাদেশে ওষুধ প্রতিরোধী (এমডিআর) যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বের যে ২৭টি দেশে এমডিআর যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। অপরদিকে বাংলাদেশে প্রতি বছর মোট শনাক্তকৃত যক্ষ্মা রোগীর প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ শিশু। গর্ভবতী মায়ের যক্ষ্মা থাকলে পেটের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে অনেকে পূর্ণ-মেয়াদ ওষুধ সেবন করেন না। এতে যক্ষ্মার জীবাণু ওষুধ প্রতিরোধী বা এমডিআরে পরিণত হয়। এসব রোগীর হাঁচি-কাশি থেকে অন্যরা সরাসরি এমডিআর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। এমডিআর যক্ষ্মায় মৃত্যুর হার ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বলে আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্তের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) বৈশ্বিক যক্ষ্মা প্রতিবেদন-২০১২-এর প্রতিবেদন নতুন ও সরাসরি এমডিআর রোগী কমার তথ্য দিলেও সাধারণ যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এমডিআর প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার খবর দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, যক্ষ্মারোগ চিকিত্সায় উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক রিফামপিসিন, ইথামবুটুল, পাইরাজিনামাইট এবং আইএনএইচ সেবন করতে হয়। রোগীর অবস্থা ও জটিলতাভেদে চিকিত্সকরা ওষুধ লেখেন। ওষুধের মাত্রা ও মান ঠিক না থাকলে, ওষুধ সেবনে বিরতি পড়লে, ওষুধের ফুলকোর্স (টানা ছয় মাস) শেষ না করলে জীবাণু ওষুধ প্রতিরোধী হয়। আর এমডিআর রোগীদের ১৮-২৪ মাস পর্যন্ত একটানা ওষুধ খেতে হয়। এটা কষ্টকর ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, শিশুদের যক্ষ্মা শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। ব্যবস্থাপনাও একটু দুরূহ। এ কারণে চিকিত্সককে বেশি সময় নিয়ে রোগীর হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থাপত্র দিতে হবে।
