ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরিতে সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২১:২৪
দ্বিতীয় দফা ভুয়া সনদ নেয়ার পর চাকরিতে বয়স বৃদ্ধির সুবিধা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকার সঙ্গে ওই কর্মকর্তার মুক্তিবার্তা নম্বর ও পেশা মিল না থাকায় বিষয়টি তদন্তে নেমেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)। এনএসআই মহাপরিচালক বরাবর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লেখা এক চিঠিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে কর্মরত / পিআরএল ভোগরত এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সনদ গ্রহণের সময় আবেদনে সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পেশা ‘ব্যবসা’ লেখায় তার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। উল্লেখ্য, তিনি খুলনার স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে পর পর দু’বার মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে খুলনায় তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এনায়েত উল্লাহ খান ইউছুফজী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরো বলা হয়, চাকরি জীবনের শেষ বছরে এসে ওই কর্মকর্তা ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভুয়া সনদ নিয়েছেন। যে সনদে ওই কর্মকর্তা চাকরিজীবী হলেও পেশার স্থানে ব্যবসা উল্লেখ করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স বৃদ্ধির সুবিধা নেয়ার জন্য আবেদনপত্রে তার জন্ম তারিখ ও পিআরএল তারিখ উল্লেখ করেননি। তার সনদে মুক্তিবার্তা নম্বর ০৪০১০১০১৩৭ উল্লেখ করা হলেও ওই নম্বর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নেই। জানা গেছে, ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেন। কিন্তু আবেদনপত্রের সঙ্গে দেয়া কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরে সনদটি বাতিল করে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পর ওই কর্মকর্তা নিজের পেশা গোপন করে ব্যবসায়ী হিসেবে আবারো মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেন। যার ভিত্তিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এক বছর বেশি সরকারি চাকরিতে থাকতে চান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।