বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ভালো একটা দিন গেছে গতকাল। হকি ও ক্রিকেটে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দর্শকদের জয় উপহার দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে হংকং চায়নার বিরুদ্ধে ৫-১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ দল।
গতকাল বিকালে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় স্বাগতিক বাংলাদেশ জয়ের সাথে টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিকটিও তুলে নেয় অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়নের সুবাদে। এমনকি আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারতো বাংলাদেশ । কিন্তু হাসান জুবায়ের নিলয়, কৃষ্ণ কুমার ফিল্ড গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
হংকংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু ফিল্ড গোলের সুযোগ কাজে লাগবে কম এটা প্রত্যাশা করেনি দল। কারণ হংকং খুব বেশি শক্তিশালী দল নয়। যদিও গেলবারের বাছাইয়ে বাংলাদেশ ড্র করলেও হংকংয়ের সামনে স্বাগতিকরা ছিল ফেভারিট। তবে জাহিদ, জিমি, রানা, পিন্টুদের মতো প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়রা না থাকায় দলটিতে দুর্বলতা রয়েছে। মাঝমাঠে বল ধরে খেলাটাকে এগিয়ে নিতে কুশলি ষ্টিক ওয়ার্ক করার মতো কম খেলোয়াড় রয়েছে এখনকার বাংলাদেশ দলে। সেটা বুঝতে পারছেন দলের পাকিস্তানী কোচ নাভিদ আলম, দলের অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন। গতকাল বিকালে খেলা শেষ করে কোচ বলছিলেন,‘সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে গড়া দল। নতুন খেলোয়াড় আছে। আমি তো ১৮ জনকেই খেলিয়েছি।’ অধিনায়ক চয়ন ‘ তার দল নিয়ে বলছিলেন আমরা আমাদের খেলোয়াড় নিয়ে এখনও একতাবদ্ধ আছি। আশাকরি কোনো বিভেদ জড়ো হবে না।’
হংকংকে এদিন ভালোই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশের মিমো, কৃষ্ণ কুমার, সারোয়ার, শেখ নান্নুরা। আক্রমণের চাপে হংকংয়ের রক্ষণ ভেঙ্গে পড়লেও গোলকিপার অ্যান্ড্রু ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। তাকে দুর্বল করতে সময় লেগে যায়। হংকংয়ের গোলকিপারই বাংলাদেশকে প্রতিরোধ করছিলেন। দুইবার পেনাল্টি কর্নার পেয়েও বাংলাদেশ গোল করতে পারেনি। ২১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে চয়ন গোল করেন ১-০। ৩২ মিনিটে আবার পেনাল্টি কর্নার থেকে চয়নের গোল এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে ২-০। হ্যাট্রিকের সন্ধানে থাকা চয়ন সফল হয়েছেন দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৬ মিনিটে আবার সেই পেনাল্টি কর্নার থেকে হ্যাটট্রিক করেন চয়ন ৩-০। আন্তর্জাতিক ম্যাচে চয়নের অষ্টম হ্যাটট্রিক এটি। শেষ বার হ্যাটট্রিক করেছিলেন ২০১২ সালে ব্যাংককে, থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটা বাংলাদেশের জন্য সহজ হয়ে যায়। হংকং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে পারেনি। নিলয়ের ষ্টিক থেকে বল পেয়ে মাইনুল ইসলাম কৌশিক ম্যাচের প্রথম ফিল্ড গোলটি করেন ৪-০। ৫৫ মিনিটে নিলয় গোলের খাতায় নাম লেখান ৫-১। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হংকং একটি মাত্র পেনাল্টি কর্নার পেয়ে গোল করেছে। অধিনায়ক আরিফ আলী হারের ব্যবধান কমান ৫-১।
বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানী কোচ নাভিদ আলম ফিল্ড গোল কম পাওয়ায় খুশি হতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমি খুশি। কিন্তু আরো বেশি ফিল্ড গোল আশা করেছিলাম। ৭০ ভাগ বল পজেশন আমাদের ছিল। তবে ভালো লেগেছে আক্রমণ করে বল হারিয়ে পিছিয়ে না যাওয়া।’ হংকংয়ের গোল প্রশ্নে নাভিদ আলম বলেন, ‘বদলী গোলকিপার মনোয়ার হোসেন কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল হজম করেছে।’ আট দল নিয়ে এশিয়ান হকির বাছাই চলছে ঢাকায়। ছয় দল উঠবে এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামীকাল সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে।
