দশজনের ভিড়ে নিজেকে একটু অন্যভাবে দেখতে কার না ভালো লাগে। আর তাই সময়ের সাথে নিজেকে একটু একটু করে বদলে ফেলা। এই বদলে ফেলার ভিড়ে আজ যা হাল ফ্যাশন, কাল তা দূর অতীত। রংবেরঙের পোশাক অথবা হাল্কা সাজে সাধারণ পোশাকেও একজন হয়ে উঠতে পারে অনন্যা, অসাধারণ। সবকিছুই নির্ভর করে আপনার ফ্যাশন ভাবনার উপর। আপনাকে আরও স্টাইলিস্ট এবং আরও আকর্ষণীয় করতেই কয়েকজন বন্ধুর প্রয়াসে বনানীতে গড়ে
উঠেছে ইরা হাউস। ঘুরে
এসে লিখেছেন
সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
পরিসরটা খুব বড় নয়, তবুও বোঝা যায় এখানের প্রতিটি সংগ্রহের পেছনে রয়েছে নিজস্ব পছন্দ আর আন্তরিকতার ছোঁয়া। ভায়োলা, সুভাস্ত্রা আর স্পার্কলিন ইমোশনস, এই তিনের সমন্বয়েই ইরা হাউস। প্রথম দুটি কাজ করছে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ ও টপস নিয়ে আর পরেরটার নাম শুনেই বোঝা যায়, তাদের সংগ্রহে রয়েছে এক্সক্লুসিভ কিছু গহনা ও অনুষঙ্গ। ভায়োলা দিয়েই শুরু করা যাক! ফারিহা তাসমীন, নিজের পছন্দের পোশাকটা নিজেই তৈরি করে নিতেন এক সময়। সূক্ষ্ম কারুকাজ বলেন, কী কাপড়ের ধরন কেমন হবে, সব নিয়েই ভাবতেন তিনি। বন্ধুরাও একটা সময় তার এসব নিত্য ফ্যাশন আইডিয়ার ভক্ত বনে গেল, নিজের পাশাপাশি তাই এবার শুরু হলো তাদের জন্য পোশাকের ডিজাইন। এভাবেই বছর কয়েক আগে অনলাইনের মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ডের পরিচিতি গড়ে তোলেন। এখন সেগুলো সব সামনাসামনি দেখেই বেছে নিতে পারছেন ক্রেতারা। রয়েছে পছন্দ অনুযায়ী টেইলারিংয়ের সুযোগও। তার ডিজাইন করা কামিজগুলো সমসাময়িক তো বটেই, সেই সাথে খাপ খাইয়ে যায় আমাদের দেশের আবহাওয়া ও সংস্কৃতির সাথেও। ভায়োলা’র যারা ভক্ত তারা তাই নিয়মিতই ঢুঁ মারেন এখানে, নতুন কোনো ফ্যাশন ভাবনায় মাতালেন ফারিহা তা দেখার জন্য।
এবার স্পার্কলিং ইমোশনসের দিকে আসা যাক। আউটলেটে আসা মাত্রই ফেসবুকে চেকইন দিয়ে ওদের থেকে নিয়ে নিন ফাইভ পারসেন্ট ডিসকাউন্ট। কীসের উপর নেবেন? সেই তালিকাটা বেশ লম্বা। কানের দুল থেকে শুরু করে ব্রেসলেট, নেকলেস, আংটি, মোবাইল ফোনের অনুষঙ্গ, হাতের ব্যান্ডস, বেল্টস এবং আরও যত রকম অনুষঙ্গ না হলে আপনার সাজ পূর্ণ হয় না তার সব নিয়েই হাজির তারা। তৃষিতা, নওরোজ আর মারুফের এই সব সংগ্রহ করা সব সিঙ্গাপুর থেকে। যারা হরহামেশাই সেখানে যেতে পারেন না, তারা নিশ্চয়ই বনানীর ইরা হাউসে না গেলে অনেক কিছু মিস করে যাবেন।
নাদিরা হকের সুভাস্ত্রাও যাত্রা শুরু করেছিল অনলাইনে। মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ আর টপসের আইডিয়া নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন তার ঘরানার এক শ্রেণীর ক্রেতাই তৈরি করে ফেলেছেন। ইরা হাউসের একটা দিকে তার ডিজাইন করা পোশাকে সাজানো। শুধুই কী ডিজাইন? রং, আরাম আর আভিজাত্যের দিক দিয়েও সুভাস্ত্রার পোশাক অনেক এগিয়ে।
এ ক ন জ রে
ইরা হাউস
বিশেষত্ব :একদল মেধাবী তরুণ-তরুণীর পছন্দের ভিত্তিতে তৈরি সংগ্রহশালা। পাবেন পোশাক ও অনুষঙ্গ।
কোথায় :বাসা-৬৬, রোড-১০, বনানী, ঢাকা
