প্রচণ্ড খরতাপে চোখ জুড়ানো প্রশান্তি নিয়ে আসে অগ্নি রাঙা কৃষ্ণচূড়া। শহরের পার্ক কিংবা গ্রামের পথে-প্রান্তরে দেখা মেলে বৃক্ষটির। বহুদূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছে যেন আগুন লেগেছে! আমাদের দেশে মূলত দুই ধরনের কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটতে দেখা যায়—একটি উজ্জ্বল লাল আর অন্যটি হলদেটে লাল।
কৃষ্ণচূড়াগাছ জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং পাতার বর্ণ উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০ থেকে ৪০টি উপপত্র বিশিষ্ট। এর বৈজ্ঞানিক নাম Delonix Regia। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়িযুক্ত, থোকা থোকা। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হতে পারে। উচ্চতায় এই উদ্ভিদ সর্বোচ্চ ১২ মিটার হলেও শাখা-প্রশাখায় অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ায়। জন্মে উষ্ণ বা প্রায় উষ্ণ আবহাওয়ায়। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কারে। তবে বাংলাদেশসহ ভারত, হংকং, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, ফ্লোরিডা উপত্যকায় দেখা মেলে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন হলেও বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল-জুন সময়কালে ফোটে। সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও এই গাছ ছায়া দিতে বেশ পারদর্শী। কৃষ্ণচূড়া ফুলের উজ্জ্বল রং—তরুরাজ্যে এত উজ্জ্বল রং পাওয়া সত্যিই দুর্লভ।
আলোকচিত্রী :রেহেনা আক্তার
