মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে এমনিতেই এখনও পর্যন্ত দর্শকদের তেমন আগ্রহ বিশ্বের কোথাও তৈরী হয়নি। তার ওপর ছেলেদের বিশ্বকাপের পাশেই প্রতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হয় বলে আরও বেশী নজর হারিয়ে যাওয়ার দুঃখই থাকে। গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের অধিনায়করা এই দুঃখের ব্যাপারটি মেনে নিয়েই বললেন, তারপরও তারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স করেই সবার নজর কাড়তে প্রতীজ্ঞাবদ্ধ।
এর মধ্যে বাংলাদেশের অধিনায়ককে নিয়েই বাংলাদেশের আগ্রহ বেশী। যদিও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের এখনও পর্যন্ত বলার মতো সাফল্য নেই। তারপরও সালমা আশার কথা শোনালেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রাথমিক বাধা পার হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানো।’
গতকাল এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন, আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক ইসাবেলা জয়েস, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক শশীকলা শ্রীবর্ধনে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক মেরিসা আগুইলেরা।
এখানে সবাইকেই যার যার দেশে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে হল। ইতিমধ্যে পেশাদার ক্রিকেটে পথচলা শুরু করা শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়করা জানালেন, খেলাকে পেশা হিসেবে নেয়ার টানে এবং ভালোবাসা থেকেই তারা ক্রিকেটে এসেছেন। আর ব্যক্তিগতভাবে ইসাবেলার পরিবার এতোটাই ক্রিকেট সম্পৃক্ত যে, তিনি খেলায় না এলেই বিস্মিত হতে হত। ভাই এড জয়ের আছেন আয়ারল্যান্ড ছেলেদের দলে, আগে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলেছেন।
আরেক ভাই ডম জয়েসও ছেলেদের দলে খেলেছেন, আরও এক ভাই গাস জয়েস প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট পর্যন্ত খেলেছেন। আর ইসাবেলার ‘আইডেন্টিকাল’ জমজ বোন সিসিলিয়াও মেয়েদের দলে খেলছেন। সবমিলিয়ে ৫ ভাই বোন সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন!
এমন কোনো গল্প বাংলাদেশের না থাকলেও এবার রূপকথার মতো বিশ্বকাপ উপহার দিতে চান সালমারা। অন্তত তেমনই বললেন অধিনায়ক, ‘আমরা নানা কারণে সম্প্রতি ভালো ফল পাইনি। তবে সিলেটের উইকেট ও দলের অবস্থা দেখে আমি আশাবাদী। আশাকরি, আমরা ভালো একটা ফল পাবো।’
