ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ মহিউদ্দিন হলে থাকছেন তিন-চার বছর ধরে। হলকে এখন তার নিজের বাড়ির মতোই মনে হয়। রুমমেটের সাথে তার ভাই-ভাইয়ের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হলের জীবন বৈচিত্র্যপূর্ণ সবসময়ই। সকাল বেলা পত্রিকা পড়া থেকে খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলায় বাধাহীন জীবন স্মৃতির ফ্রেমে ধরে রাখার মতো
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
স্কুল জীবন বাবা-মায়ের শাসন, শিক্ষকদের তীক্ষ্ম দৃষ্টি আর নজরদারিতে কাটে ছাত্র জীবন। এসএসসি পাসের পর এইচএসসি পা রেখে স্বাধীনতার স্বাদ খুঁজে পায় শিক্ষার্থীরা। আর এদের মধ্যে কারো যদি কলেজের হলে থেকে শুরু হয় উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা, তবে তাদের তো কথাই নেই। অবাধ স্বাধীনতা তাদের উপভোগ্য প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে। দশ দিকে দশজন এসে নদী সাগরে মিলনের মতো এক ছাদকে আপন করে নেয় পরম মমতায়। নানা ভাষার নানা বয়সের মানুষের মিলনস্থল হলগুলোর চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। দিনের কিছু অংশ কেটে যায় পড়াশোনায় আর আড্ডা, খুনসুটিতে কাটে কিছু সময়। হল জীবনের এমন অনুভূতি সম্পর্কে কথা হচ্ছিলো চাঁদপুর সরকারি কলেজের শহীদ জিয়া হলের ক’জন শিক্ষার্থীদের সাথে।
রসায়ন বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল কালাম দেওয়ান তার হল জীবনের অভিজ্ঞতার সম্পর্কে বলেন, হলের এক রুমে যদিও আমরা চারজন থাকি চার উপজেলার, তবু আমাদের বন্ধুত্ব হতে দেরি হয় না। সিনিয়র-জুনিয়র কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই সবার সাথে মিশছি। দুঃখ-কষ্ট-আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিয়েছি। এ বন্ধুর মাঝে মাঝে পারিবারিক পর্যায় পর্যন্ত যাওয়া আসা হয়। এক রুমমেটের কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান হলে একে অন্যদেরকে দাওয়াত দেই। আমরা যাই। আমাদের মধ্যে আস্তে আস্তে পারিবারিক বন্ধন গড়ে।
বাংলা বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, কলেজ ভর্তির এক বছর পর হলে উঠি। প্রথম কেউ কাউকে চিনতাম না। জানতাম না। তাই প্রথম প্রথম নিজেকে কেমন বন্দি বন্দি লাগছিলো। কিন্তু দুই সপ্তাহ না যেতেই হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। অধিকাংশ শুক্রবারেই আমরা বন্ধুরা চাঁদপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো চষে বেড়াই। এখন হল জীবন আমার কাছে বেশ উপভোগ্য।
