ন্যাশনাল কলেজ
যেদিন জানলাম ন্যাশনাল কলেজের শিক্ষাসফর হচ্ছে কক্সবাজারে, সেদিন থেকেই কল্পনার ঢেউগুলো আছড়ে পড়তে শুরু করলো আমার হূদয়ের বেলাভূমিতে। শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছি কখন আমরা কক্সবাজারের উদ্দশ্যে যাত্রা শুরু করবো। আমাদের প্রিয় অধ্যক্ষ স্যার মো. শহীদুল আলম অবশেষে ঘোষণা করলেন আমাদের গাড়ী এখনই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছে। তখন ঘড়ির কাটায় রাত ১০টা। রাতের অন্ধকার ভেদ করে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আমরা পৌঁছে গেলাম বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
নয়নাভিরাম কর্ণফুলি সেতু পার হয়ে পাহাড়ী আকাঁবাঁকা পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম আাামাদের গন্তব্যে। দু’পাশে পাহাড়ী বনভূমি বুনো গাছ আর নাম না জানা হাজারো ফল যেন আমাদের আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছে। সবুজ বনভূমির মোহ কাটতে না কাটতেই কে যেন চিত্কার করেউঠলো ঐতো সমুদ্র! সত্যিই এক অপূর্ব সৌন্দর্য এই প্রথম অবলোকন করলাম। মেরিন ড্রাইভের একপাশে পাহাড় আর অন্যপাশে বিশাল জলরাশি আছড়ে পড়ছে বেলাভূমিতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ঝাউবনের ভেতর দিয়ে ইনানী সৈকতের দিকে। সমুদ্রের ঢেউগুলোকে মনে হচ্ছিল আমাদের সাথে দুষ্টুমি করবে বলেই এগিয়ে আসছে। বালুর গালিচা পেরিয়ে আমরা নেমে পড়লাম সমুদ্র জলে। অচেনা এ পরিবেশকে আমাদের কখনোই ভয়ংকর মনে হয়নি, বরং কতশত জনমের চিরচেনা মনে হয়েছে।
শেওলা জড়ানো প্রবালের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট মাছগুলোর সাথে লুকোচুরি করতে করতে ঢেউয়ের কোলে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। সাগরের ওপার থেকে ছুটে আসা ঢেউগুলো তার উষ্ণতা দিয়ে আমাদের আলিঙ্গন করছে।
