কর্মব্যস্ত জীবনে দিনভর কর্মশক্তি ধরে রাখতে অভিজ্ঞদের পরামর্শ সাহায্য করবে আপনাকে। এসব বিষয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত কিছু মানুষের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এই লেখায় তুলে ধরেছেন সানজিদা সুলতানা
ডিজিটাল শেকল ভেঙে ফেলুন
আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সাথে এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তি ছাড়া যেন আমাদের জীবনের একটি দিনও চলে না। নিজের আরামের সময়েতও স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসির মতো মোবাইল ডিভাইস আমাদের জড়িয়ে ফেলে নানা ধরনের নোটিফিকেশনের সাথে। ফলে নিজের আরামটা নিজের মতো করে উপভোগ করা হয় না। তাই ডিজিটাল জীবনের এই অনুষঙ্গগুলোকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আলাদা করে রাখুন।
দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক রাখুন
জীবনে সফলতার জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিকল্প নেই। সময়টা আপনার অনুকূলেই থাকুক আর প্রতিকূলেই থাকুক, সবকিছুকে ইতিবাচকভাবেই দেখতে হবে। কখনও কোনো ঘটনা আপনার পক্ষে না গেলেও সেটি থেকেই আপনার জন্য ইতিবাচক উপকরণগুলো খুঁজে বের করুন। আর তাহলেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
বেড়িয়ে পড়ুন রাস্তায়
জীবনে চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। তবে চলার পথের শিক্ষা আপনি পেতে পারেন যেকোনো জায়গা থেকেই। আর তাই বেরিয়ে পড়ুন নিজের গণ্ডি থেকে। ঘুরে বেড়ান এখানে-ওখানে। বলাই হয়ে থাকে, প্রকৃতি হলো সবচেয়ে বড় শিক্ষক। তাই আপনার গণ্ডিবদ্ধ জীবনের বাইরের নানা জায়গা থেকেই পেতে পারেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আপনাকে সমৃদ্ধ করবে।
বিনোদনে মেতে উঠুন
একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিনোদনের সহায়তা নিন। একটু অবসর পেলেই পছন্দের কিছু গান হয়ে উঠতে পারে আপনার মনের ক্লান্তিনিবারক ঔষধ। সিনেমা হলে কিংবা বাসার কম্পিউটারেই ভালো কোনো সিনেমা বা টেলিভিশনে পছন্দের কোনো অনুষ্ঠানও হতে পারে আপনার বিনোদনের খোরাক।
নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে সচেতন থাকুন
আপনার কর্মজীবনকেও উপভোগ করতে চাইলে কর্মক্ষেত্রে নিজের পছন্দের ও স্বাচ্ছ্যন্দের বিষয়গুলোতে সচেতন থাকুন। আপনার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পোশাক কিংবা পরিধেয় আপনার কাজের সময়টাকে নিজের মতো করে চলতে সহায়তা করবে। আবার কর্মক্ষেত্রে পছন্দের মানুষগুলোও আপনার মনের খোরাক যোগাবে।
কাজকে ছুটি বলুন
কিছু কিছু সময় কাজকে দূরে ঠেলে রাখুন। সেটা আপনার কাজের ক্লান্তিকে দূরে রাখবে। নিজের জন্য তাই একান্ত সময় বের করুন মাঝে মাঝে। সেটা এমনকি হতে পারে বাথরুমে একটি লম্বা শাওয়ার নেওয়ার মাধ্যমেও।
ঝরঝরে হোন ব্যায়ামে
রুটিনবাঁধা জীবনে শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতে ব্যায়ামের আশ্রয় নিতে পারেন। শরীরচর্চা এই বিষয়ে যথেষ্টই সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিন একটু করে ব্যায়াম আপনার শারীরিক ফিটনেসকে যেমন চাঙ্গা রাখবে, তেমনি আপনার মানসিক প্রশান্তির জন্যও সহায়ক হয়ে উঠবে।
হাইদি ক্লাম
সুপারমডেল এবং ‘রানওয়ে’ ও ‘আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট’ অনুষ্ঠানের বিচারক
বাড়িতে ফেরার পর আমি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাদি থেকে দূরে থাকি। বাড়িতে ঢুকেই দরজার কাছে ব্যাগ ও সব যন্ত্র রেখে দেই। মাঝে মাঝে ইমেইল, আইফোন, আইপ্যাডের মতো যন্ত্র আমাদের জীবন দখল করে ফেলে। তাই এসব জিনিসকে যতটুকু সময় সম্ভব এড়িয়ে চলি।
পারিসা তাবরিজ
গুগল ক্রোমের সিকিউরিটির টিমের উপদর্শক
ইন্টারনেটে সব ধরনের নিরাপত্তার জন্য আমার নিজের ও আমার টিমের ওপর নির্ভর করে অসংখ্য মানুষ। এটা আমাকে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের ছুটি দেয়। ওই সময়টুকুতে আমি কোনো ধরনের অ্যালার্ট, নোটিফিকেশন কিংবা ডিজিটাল বিঘ্নকে প্রশ্রয় দেই না।
সাবরিনা সোটো
এইচজিটিভি’র বিভিন্ন প্রজেক্টের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ও হোস্ট
যখন আমরা ঘর সাজানোর কোনো অনুষ্ঠান শুট করি, ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা আমাদের সেটেই থাকতে হয়। আমাকে তো সারাদিনই ক্যামেরায় থাকতে হয়, প্রচণ্ড খারাপ মানসিক অবস্থাতেও। তাই নিজেকে কর্মোদ্দীপ্ত রাখতে প্রতিদিন শুরু করি আমার জীবনের ইতিবাচক বিষয়গুলোর কথা চিন্তা করে। এটা আমাকে কাজে মনযোগী করে। একইসাথে মনে করিয়ে দেয়, যে কাজ করতে আমি ভালোবাসি তাই করার সুযোগ পাচ্ছি।
এরিন এন্ড্রুস
ফক্স স্পোর্টসের ব্রডকাস্টার
এখন আমি প্রথম এনএইচএল টিমের কোচের রুটিন মতো চলছি—প্লেনে উঠে সোজা জিমে চলে যাই। একইসাথে ‘ফিজিক ফিফটি সেভেনের’ শরীরচর্চার অনলাইন ক্লাসগুলোও আমার ভালো লাগে। স্বল্প খরচে ৩০ মিনিটের নিয়মিত ক্লাস পাওয়া যায় এখানে।
রিতা উইলসন
অভিনেত্রী, প্রযোজক ও কণ্ঠশিল্পী
গান মানুষের মোড পাল্টে দেয়, এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই একটা জিনিস ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। সবারই উচিত ব্যস্ত সময়ের বেড়াজালের মধ্যে থেকে কিছু সময় গানের জন্য বের করা। আমার সব ধরনের গানই শুনতে ভালো লাগে।
