সোমেশ্বরী নদীর পানিবন্টন দ্বন্দ্ব ৪ যুগেও নিরসন হয়নি

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:০০
শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বন্টন নিয়ে দু’উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব ৪ যুগেও নিরসন হয়নি। ফলে ভাটি এলাকার কৃষকরা সেচ সংকটে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকরা জানায়, সোমেশ্বরী নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩ হাজার কৃষক ৭ হাজার একর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করে থাকেন। বর্ষা মৌসুমে এ নদীতে পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে ভাটি এলাকার এসব জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আমন ফসল হয় না। এসব এলাকার কৃষকদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন বোরো চাষাবাদ। কিন্তু বোরো মৌসুমে সোমেশ্বরী নদীর উজানে শ্রীবরদী উপজেলার কৃষকরা বালিজুরী নামক স্থানে নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ বন্ধ করে দেন। ফলে ভাটি এলাকার জমির বোরো ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়ে যায়। একদিকে বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে আমন ফসল হচ্ছে না। অপরদিকে, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বাঁধ দেয়ায় বোরো ফসল হচ্ছে ব্যাহত। এ যেন কৃষকদের মরার উপর খারার ঘা। বোরো মৌসুমে পানি বন্টনের দাবিতে শত শত কৃষক মিছিল-সমাবেশ, বিচার-সালিশ দু’ উপজেলার কৃষকদের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এলাকাবাসী বলেন, সোমেশ্বরী নদীর বালিজুরীতে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের জন্যে স্বাধীনতার পর থেকেই এলাকার কৃষকদের পক্ষ থেকে বহুবার আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া গেছে। তবে তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০৪ সালে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের কাজ হাতে নেয় সরকার। কিন্তু রাবার ড্যামটি বালিজুরীতে নির্মাণ না করে অপরিকল্পিতভাবে সোমেশ্বরী নদীর আয়নাপুরে নির্মাণ করা হয়। আর নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে রাবার ড্যামটি বিধ্বস্ত হয়ে সরকারের ৪ কোটি টাকা গচ্চা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক পানি সংকট সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই অবৈধ বাঁধ নির্মাণকারীদের ডাকা হয়েছে। ২/১ এর মধ্যেই একটা সমাধান হবে।