বোর্ডের সাথে দেশটির ক্রিকেটারদের ঝামেলার ইতিহাস বহু পুরনো। তার উপর মাঠের পারফরম্যান্সও ভাল না। সর্বশেষ এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আইসিসির সহযোগী দেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গেছে। কিন্তু, সকল বিতর্ক, গ্লানি আর হতাশাকে কিছুটা হলে স্বস্তির বাতাস দিয়ে সরিয়ে দিতে পারলো জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল।
স্বস্তির বাতাস হয়ে এলো ভুসিমুজি সিবান্দার এক ছয়। শেষ বলে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য যখন এক রান দরকার ঠিক তখন পেসার আহসান মালিককে লং অনের উপর দিয়ে মারলেন বিশাল এক ছয়। আর এর সুবাদেই নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের স্বস্তির এক জয় পেল জিম্বাবুয়ে। ম্যাচ জিতলেও সুপার টেনে ওঠার পথটা এখনও বেশ শক্ত জিম্বাবুয়ের জন্য। সেজন্যই কিনা জিতেও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর, ‘আমরা সহজ কিছু সুযোগ হাত ছাড়া করেছি। কিছু ভুলের কারণে ১০-১৫ রান বেশি দিয়েছি। পেশাদার ক্রিকেটে এমনটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। আশা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা এর চেয়ে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারবো।’
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের নায়ক টম কুপার। এই কদিনে তাকে নিয়ে আইসিসি ও নেদারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে কম জল ঘোলা হয়নি। কিন্তু মাঠের বাইরের ঘটনা যে মাঠে আসলে ভুলে যান, সেটাই প্রমাণ করলেন অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত এই ক্রিকেটার।
শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া নেদারল্যান্ড ব্যাটিং লাইন আপের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। ৩৫ রানের মধ্যে চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও যে দলটি পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তুলতে পারলো তার কৃতিত্বও টম কুপারের। ৫৮ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ৭২ রানে। ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও একটি ছক্কা। জবাবে ধীরে সুস্থেই ব্যাটিং শুরু করে জিম্বাবুয়ে। ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪৫ বলে ৪৩ ও অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ৩৯ বলে করেন ৪৯ রান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল মাত্র সাত রান। প্রথম তিন বলের মধ্যে ছয় রান চলে আসায় বাকিটা ছিল স্রেফ নিয়ম রক্ষার লড়াই। কিন্তু গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটের সর্বশ ম্যাচের ইতিটা ভেবে রেখেছিলেন একটু অন্যভাবে। চতুর্থ বল ডট, আর পঞ্চম বলে শন উইলিয়ামস ২৬ রান করে বিদায় নিলে ম্যাচে কিছুটা নাটকের দিকে মোড় নেয়।
কিন্তু নেদারল্যান্ডের সব স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিল সিবান্দার ওই ছয়!
