ঝালকাঠি খাদ্যগুদামে ধান রাখায় অপারগতার অভিযোগ কৃষকের বিক্ষোভ

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ২১:৫৩

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে কৃষকরা বিক্ষোভ করেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের নিয়ে আসা ধান গুদাম কর্তৃপক্ষ রাখতে অপারগতা জানালে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাসের মধ্যে ধান ক্রয় না করে এবার একজন কৃষকের কাছ থেকে গোপনে ৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ধান বিক্রির জন্য খাদ্য গুদামে নিয়ে এলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও এসএমও কৃষকদের তোপের মুখে পড়ে ধান ক্রয় করতে বাধ্য হয়।

খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে আসা বাসন্ডা ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ্জাহান, চৌপলা গ্রামের জয়নাল আবেদিন, তাজিনূর বেগম, নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের শেখ নূরুল আমিনসহ আরো অনেকে অভিযোগ করেন, খাদ্য গুদামের কিছু অসাধু কর্মকর্তা গত বছর নিয়ম ভঙ্গ করে একটি ইউনিয়ন থেকে ধান ক্রয় করে। এতে অপর কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এবার সরকার ২৫ এপ্রিল ধান ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু করলেও আজ পর্যন্ত আমাদের ধান ক্রয় না করে গুদাম কর্মকর্তারা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। গত ২১ মে ধান ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও তা না করে একজন কৃষকের কাছ থেকে ৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে গুদামজাত করা হয়। তাই এই খবর পেয়ে আজ আমরা আমাদের উত্পাদিত ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে এলে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ওমর ফারুক এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত ধানের বস্তা মজুদ না থাকায় এবং ধান ক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন না করায় ঈদের পরে ধান নিয়ে আসতে বলেন।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি খাদ্য গুদামের এসএমও গাজী মো. মাজহারুল আনোয়ার বলেন, এক কৃষকের কাছ থেকে ৬ মেট্রিক টন রাখা ধান ক্রয় করা হয়নি। গত ২১ মে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা থাকায় নমুনা হিসেবে এটা গুদামে রাখা হয়। তবে আজকের কৃষকদের আমরা ধান নিয়ে আসতে বলিনি। কারণ আজ (বুধবার) এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হবার পরে তাদের ধান ক্রয়ের নির্ধারিত তারিখ জানিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তাই এই মুহূর্তে কৃষকদের ধান ক্রয় করা সম্ভব নয়।

কী কারণে প্রায় এক মাসেও এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা যায়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের ধানের বস্তার সঙ্কটের পাশাপাশি এ বিষয়ে মিটিং রেজুলেশনসহ সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের দেরি হয়েছে।

যদিও এসএমওর সাথে দ্বিমত পোষণ করে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম জানান, আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে ধান ক্রয়ের বস্তা মজুদ রয়েছে। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক ধান উত্পাদনের তালিকা প্রেরণে দেরি করায় এ কার্যক্রম দেরিতে শুরু হয়। তবে এই কার্যক্রম উদ্বোধনের জন্য ৬ মেট্রিক টন ধান না রাখলেও হতো। তবে আজ যারা ধান নিয়ে এসেছে আমরা চেষ্টা করবো সবার ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নিয়ে নেয়ার।