পীরগাছায় লোডশেডিংয়ের কবলে ২০ হাজার গ্রাহক!

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ২১:৫৩

পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা

রংপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-১ পীরগাছা জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২০ হাজার গ্রাহক ঘণ্টায় ৪০ বার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি ও বকেয়া বিলের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদে রবিবার সন্ধ্যায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ পীরগাছা জোনাল অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, রংপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-১ পীরগাছা জোনাল অফিসের আওতায় ৬০ হাজার গ্রাহকের জন্য সংযোগ লাইন ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটিতে আলাদা আলাদা সংযোগ লাইন থাকলেও শুধুমাত্র কৈকুড়ী ও কান্দি ইউনিয়নে একটি সংযোগ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই দুটি ইউনিয়নে ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। ওই সংযোগ লাইনটি ৪নং ফিড হিসেবে পরিচিত। অন্যান্য ফিডের গ্রাহকরা দিনে গড়ে তিন-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়লেও ৪নং ফিডটি সর্বক্ষণ লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের কবলে পড়ে থাকে। আকাশে মেঘ দেখা গেলেও বিদ্যুত্ বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে ২৪ ঘণ্টাই লোডশেডিং দেওয়া হয়। আবার ঘণ্টায় ৪০ বার লোডশেডিং দেওয়ারও রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও মাঝে মাঝেই কৈকুড়ী ইউনিয়নে বিদ্যুত্ রেখে শুধুমাত্র কান্দি ইউনিয়ন বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে রমজান মাসে বকেয়া বিল আদায়ের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু করেছেন।

কান্দি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য প্রশান্ত কুমার মিশ্র জানান, ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় গ্রাহক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, রমজান মাসে বকেয়া বিল আদায়ের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে রংপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-১ এর এজিএম(পর) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,  লোডশেডিংয়ের কারণে নয় ৪নং ফিডটি দীর্ঘ ও গ্রাহক সংখ্যা বেশি থাকায় সমস্যা হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে গাছের ডাল লাইনে পড়ছে। প্রতিটি ফিডে এসিআর চালু আছে, তাই ডাল পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ইচ্ছা করে বন্ধ করা হয় না। তবে রংপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-১ এর ডিজিএম আব্দুল জলিল বলেন, পীরগাছায় কোনো লোডশেডিং নেই। ঝড়ের কারণে বিদ্যুত্ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর বিদ্যুত্ দিতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।