বিটিসিএলের সিডিআর দুর্নীতি মামলার চার্জশিট অনুমোদন

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৯
পৌনে ৬শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত দুটি মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যার মধ্যে নতুন একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি ৯ জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) দুর্নীতির এ দুটি মামলা থেকে বিটিসিএলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও দীর্ঘ ৪ মাস পর গত মঙ্গলবার বিকালে কমিশন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশন দুটি মামলায় প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ শেষে এই চার্জশিট অনুমোদন করে। তদন্ত প্রতিবেদনসূত্রে জানা যায়, প্রতিবেদনে ৫৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৫ টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতিপূর্বক আত্মসাতের দায়ে বিটিসিএলের সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী রোনেল চাকমা, মো. বদিউল আলম এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (আইটিএক্স) আবু হেনাকে আসামি করা হয়। এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বিটিসিএলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আবু সাইদ খান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি আজিজুল ইসলাম, সাবেক সদস্য ইঞ্জি. মোহাম্মদ তৌফিক, সাবেক জিএম আনোয়ারুল মামুন, এলএম এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজার আসিফ জাহিদ চৌধুরী, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মাসরুরুল হাকিম এবং রবির কাস্টমার অপারেশন ম্যানেজার নজরুল ইসলাম। অপর মামলার বিষয়ে জানা যায়, ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৭২ টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতিপূর্বক আত্মসাতের দায়ে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বিটিসিএলের সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ খোরশেদ হাসান, মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, সাবেক এডিই মো. সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী মোসা. মনীরা বেগম, সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ কায়ছার এবং সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী রোনেল চাকমাকে আসামি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আটজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এরা হলেন-বিটিসিএলের ভারপ্রাপ্ত এমডি এস. ও. এম. কলিম উল্ল্যাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. আবু সাইদ খান, সাবেক সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) ইঞ্জি. মোহাম্মদ তৌফিক, সাবেক জিএম (ওটিআর ও বর্তমানে জিএম, বিটিসিএল-ইস্ট) আনোয়ারুল মামুন, সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী (আইটিএক্স), মু. মোক্তার আহমেদ, এলএম এরিক্সন বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজার আসিফ জাহিদ চৌধুরী, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মাসরুরুল হাকিম এবং রবির কাস্টমার অপারেশন ম্যানেজার নজরুল ইসলাম। এছাড়া ৮৩ লাখ টাকা এবং আট কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত আরো দুটি মামলা দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক এসএম সাহিদুর রহমান এবং মাহমুদ হাসান ওই দুটি মামলার তদন্ত করছেন। উল্লেখ্য, প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট বিটিসিএলের সাবেক ও বর্তমান পাঁচ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করেছিল দুদক।