প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উপজেলা পরিষদের পরবর্তী ধাপসমূহের নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে হতে পারে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরও বেশি সক্রিয় হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। উপজেলা নির্বাচনে সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদীদের ভোট না দিতে এবং তাদের ‘না’ বলে দেয়ার জন্য জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এম এ আউয়ালের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। একই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের লালন করে। এটা খুব দুঃখজনক। নির্বাচনে তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বহু মামলার আসামিদের মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়, এটাও দুর্ভাগ্যের। নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থাকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সেজন্য যেখানেই সমস্যা দেখছে, সেখানেই তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াতসহ ১৯ দলীয় জোটের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই নির্বাচন বন্ধের নামে বিএনপি-জামায়াত পাঁচশ’র বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আক্রমণ করে, তারা সেগুলো পুড়িয়ে দেয়। আড়াইশর বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভাংচুর করে। আন্দোলনের নামে তারা পুলিশসহ সাধারণ মানুষকে বোমা মেরে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। মানুষকে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে দেয়নি। তারপরেও তাদের এসব কর্মকান্ড উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
আওয়ামী লীগের ডা. এস এম সিরাজুল আকবরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যখন মিলিটারি ডিক্টেটররা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল, তখনই নির্বাচনে কারচুপির অপসংস্কৃতি শুরু হয়। বিএনপিরও জন্ম হয়েছিল এমন এক মিলিটারি ডিক্টেটরের হাতে। আর জামায়াত ছিল আমাদের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। সুতরাং এই দুটি দল যখন একত্র হয়, তখন দেশে শান্তি আসবে কীভাবে! আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণমানুষের সংগঠন। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন করা। সেজন্য মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সাংবিধানিক অধিকার আমরা সবসময়ই রক্ষা করি।
শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণের পথ থেকে বিএনপি-জামায়াতকে ফেরানোর ক্ষেত্রে সরকারের কী করার আছে। এটা তাদের চরিত্রগত বিষয়। তারা যদি নিজেদের চরিত্র না পাল্টায়, সরকার সেখানে কী করবে। তবে তাদের এই চরিত্র পাল্টাতে পারে বাংলাদেশের জনগণ। এদেশের জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভোটাধিকার সংরক্ষণ করবে।
এর আগে, এম এ আউয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সকল জেলা ও ইউনিট অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে এত কথা কেন হচ্ছে? যদি বলেন, তাহলে আজই সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারি। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে এত কথা কি কারণে? সেটি রহস্যময়। হয়তো কেউ আমাদের কাছে ব্যবসা চেয়েছিলেন, ব্যবসা দিইনি বলেই কী তারা এত কথা বলছেন? তা নাহলে কেন তাদের এত জ্বালা, এত দুঃখ। এক শ্রেণীর লোক এনিয়ে শুধু চিত্কার করে। অথচ এই কেন্দ্রসমূহের উত্পাদিত বিদ্যুত্ ব্যবহার করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে তারা সরকারের সমালোচনা করছে। তাহলে এগুলো যদি বন্ধ করে দিই, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নাই। বাস্তব কথা হচ্ছে, সুখ পেলে মানুষ কষ্টের কথা ভুলে যায়। এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যতদিন দরকার থাকবে, যতক্ষণ চাহিদা আছে, ততদিন রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্রগুলো থাকতেই হবে, এটাই কথা।
