অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণ

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ২২:০১

দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করে চলেছে শব্দদূষণ। মানুষের কানে শব্দের সহনীয় মাত্রা ৫০ থেকে ৭০ ডেসিবল। সেই মাত্রারও দ্বিগুণ শব্দ উত্পন্ন হচ্ছে রাজধানীসহ পুরো দেশজুড়েই। গাড়ির হর্ন শব্দদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। অযথা হর্ন বাজানোই যেন চালকদের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্যামে বসে কিংবা ফাঁকা রাস্তায় তাদের হর্ন বেজেই চলে। যদিও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার সরকার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও কিছু কিছু ট্রাক, বাসে হাইড্রোলিক হর্ন এখনো সচল। যার শব্দের মাত্রা ১২০ থেকে ১৮০ ডেসিবল পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেশের প্রায় সব হাসপাতাল রাস্তার আশেপাশে অবস্থিত। সেহেতু গাড়ির হর্ন বাজাতে এসব এলাকায় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাছাড়া স্কুল-কলেজও অনেকাংশে রাস্তার পাশেই দেখা যায়। অতিরিক্ত হর্ন যেমন শিক্ষার্থীদের পাঠে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে, তেমনি মানসিক ভারসাম্যে তৈরি করে জটিলতা। এছাড়া মাইক আরো একটি প্রধান কারণ। যে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে মার্কেটে, ফুটপাতে, রাস্তায় সারা দিনব্যাপী উচ্চস্বরে প্রচার মাইকগুলো বেজেই যাচ্ছে। যা আমাদের সহনীয় মাত্রার অধিক। আবার বেশিরভাগ শপিংমলেই জেনারেটর ব্যবহূত হয়। সেইসব জেনারেটরের শব্দ, কলকারখানার শব্দ আমাদের পরিবেশদূষণে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেই চলেছে। আমাদের অসচেতনতায় নানানভাবে শব্দদূষণ হচ্ছে। যার ফলে হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক ভারসাম্য, লিভার সিরোসিস, মাংসপেশির খিঁচুনিসহ নানান জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনসাধারণের সচেতন পদক্ষেপই পারে শব্দদূষণের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে রক্ষা করতে।

রাহাত রাব্বানী

শ্রীপুর, গাজীপুর