এমন ম্যাচও ড্র হয় !

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ২২:০৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

মোহামেডান টানা তিন ম্যাচ জিততে জিততেও পারলো না। ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ড্র করল মোহামেডান। অথচ জিতলে মোহামেডান এক দিকে যেমন ১৮ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের অনেকটা উপরে চলে যেত। তেমনি বহুদিন পর টানা জয়ের মুখ দেখার সুযোগও এসেছিল মোহামেডানের সামনে।

সব সুযোগই হারালো কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। প্রচণ্ড রোদে খেলতে নামা মোহামেডান প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে পুরো ছবিটাই বদলে গেল। মোহামেডান পুরানো রূপে আর ব্রাদার্স নতুন রূপে দাঁড়ালো। আর তাতেই মোহামেডান ব্রাদার্স খেলাটা ৩-৩ গোলে রূপ নিল। ১৬ পয়েন্ট মোহামেডানের, ব্রাদার্সের ৯ পয়েন্ট।

প্রিমিয়ার লিগের ফিরতি পর্বে মোহামেডান প্রথম খেলায় বিজেএমসিকে, দ্বিতীয় খেলায় আরামবাগকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তলানি হতে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছিল। রেলিগেশন হতে বাঁচার লড়াইয়ে ব্রাদার্সের বিপক্ষে মোহামেডানের ৩ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। লড়াই করতে নেমে ১১ মিনিটেই আবার সেই তকলিস আহমদের গোলে মোহামেডান এগিয়ে গেল (১-০)। আরামবাগের বিপক্ষে এই তকলিস গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন। সেই তকলিস কালও গোল করলেন। ৪২ মিনিট আবার মোহামেডান গোল করল ব্রাদার্সের জালে। এবার ইউসুফ সিফাত (২-০)। ২ মিনিট ব্যবধানে আবার ইউসুফ সিফাত (৩-০)।

এরপরই নির্ভার মোহামডান। ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া দলকে কেউ রুখতে পারবে না। মোহামেডানের অস্ট্রেলিয়ান কোচ সেনব্রেন্ডন লিন দায়িত্ব নিয়েছে লিগের প্রথম পর্বের শেষ দিকে। দায়িত্ব নেয়ার পর তার হাতে প্রথম ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ড্র করেছিল এবং দ্বিতীয় খেলায় হেরেছিল। লিগের মাঝ বিরতির মধ্যে বিদেশি ফুটবলার পরিবর্তন করেন কোচ। নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাতে ফলও পেতে যাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ।

লিগের ফিরতি পর্বের প্রথম দুই খেলায় জিতলেন। তৃতীয় খেলায় নিশ্চিত জয়ের দুয়ার হতে ছিটকে গেল ড্র করে। ৬৯ মিনিটে ব্রাদার্সের মান্নাফ রাব্বি (১-৩), ৮২ মিনিটে মোকাররম (২-৩) এবং ৮৮ মিনিটে আবার মান্নাফ রাব্বি গোল করেন (৩-৩)। ৩-১ হওয়ার পরও মোহামেডান ধরে নিয়েছিল জয় তাদের হাতেই। ৩-২ হওয়ার পরও রক্ষণ কিংবা আক্রমণে পরিকল্পনা ছিল না। যদিও ব্রাদার্সের গোলকিপার বিপ্লব মোহামেডানের দুটি সুযোগ নষ্ট করেছেন।

পাল্টা আক্রমণে গোল হজম করেছে মোহামেডান। খেলা শেষে মোহামেডান ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু বললেন কোচ খেলোয়াড় পরিবর্তন করার পরই গোল হজম করেছে। আর এমন খেলোয়াড় পরিবর্তন প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ার কোচ বললেন, ‘এমিলি ক্লান্ত, সিফাত ক্লান্ত, শ্যামল দুই মাস খেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধের খেলার সময় আমি বলেছিলাম ভুলে যাওয় প্রথমার্ধের ৩-০। নতুন খেলা মনে করে মাঠে নামো।’

খেলা শেষে কেউ বলছে পাতানো খেলা। কেউ বলছে পাতানো নয়। এ নিয়ে ফুটবল দর্শকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হলেও এক ম্যাচে ৬ গোল দেখে দর্শক তৃপ্ত।