শঙ্কা ও ভরসা স্পিনিং উইকেট!

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৪, ২২:৩৫
সাঈদ আজমল (৮২ উইকেট), উমর গুল (৭৫ উইকেট), শহীদ আফ্রিদি (৭২ উইকেট) — আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিন বোলার। তিন জনই পাকিস্তানি। আর এদের মধ্যে দুজন আবার স্পিনার। এর চেয়ে বড় কথা ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের স্পিনিং উইকেটে। আজমল, আফ্রিদিদের চোখ নিশ্চয়ই এতোক্ষণে ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে। শুধু এই দুজনই নয়, মোহাম্মদ হাফিজ কিংবা জুলফিকার বাবরের মতো স্পিনার নিয়ে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুপার টেনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় এক পরীক্ষা নিয়েই আসছে পাকিস্তান। এই একই ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত ও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। আর সেই দুই ম্যাচেও মূল নিয়ামক ছিলেন স্পিনাররাই। শুধু এই একটা দিক থেকেই পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া দল। জর্জ বেইলির দল বাংলাদেশে আসার আগে টানা পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতে এসেছে। তবে, সেই ম্যাচগুলো ছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। তাই সামপ্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স বিবেচনায় পিছিয়ে থাকলেও আজকের ম্যাচে এক স্পিনিং উইকেটই এগিয়ে রাখছে পাকিস্তানকে। দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজও এগিয়ে রাখছেন নিজেদেরকেই, ‘কন্ডিশনটা আমাদের পরিচিতি বলে অনেক টার্ন পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর বিপক্ষে তাই আমরাই এগিয়ে থাকবো।’ পাকিস্তানের জন্য যা ভরসার কারণ, অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেটাই আজ শঙ্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আর এই কথার সাথে পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জর্জ বেইলি, ‘পৃথিবীর যে প্রান্তেই খেলা হোক না কেন স্পিনাররা সব সময়ই কার্যকর বলে প্রমাণিত হন। আর এখানকার যা কন্ডিশন তাতে স্পিনাররা যে নিয়ামক হয়ে উঠবেন সেটা বলে না দিলেও চলে। স্পিনাররা একাই এখানে যে কোন ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারেন।’ অস্ট্রেলিয়া দল এখন তাই এই স্পিনারদের বিপক্ষে ভাল খেলার জন ছক কষছে। এই প্রসঙ্গে জর্জ বেইলি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় একটা পরীক্ষা। আমরা জানি আগামীকাল (আজ) দারুণ কিছু স্পিনারের মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের নিজেদেরও কিছু পরিকল্পনা আছে। দেখা যাক আমরা কতটা ভাল খেলতে পারি।’ প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে আছে পাকিস্তান। আজকের ম্যাচে ফিরে আসার সর্বাত্মক চেষ্টাই করবে দলটি। সর্বশেষ ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। স্পিনারদের দাপটে সেই ম্যাচও জিতেছিল পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা দশটি ওয়ানডেতে ১৩.২২ গড়ে ১৮ উইকেট নিয়ে ছোবল দিয়েছেন সাঈদ আজমল। আর উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর কোনটিতেই তিনি ওভারপ্রতি পাঁচ রানের বেশি দেননি। আজকের ম্যাচেও এমন কিছু ঘটলে অস্ট্রেলিয়ানদের পেরে ওঠা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেন ডেভিড ওয়ার্নার। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ২৬ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান। আজও তিনি জ্বলে উঠতে পারলে পাকিস্তানি স্পিনারদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের জমজমাট লড়াই-ই দেখবে মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’! মোট ম্যাচ ১১ জয় পরাজয় পাকিস্তান ৭ ৪ ০ অস্ট্রেলিয়া ৪ ৭ ০