চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে চলা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ১৯:৪৫
সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় আজ নারী পুরুষের সমান দক্ষতা নিয়ে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। এদেশের সাংবাদিকতার ইতেহাসের শুরু থেকেই নূরজাহান বেগম, সুফিয়া কামাল এই পেশায় জড়িয়ে ছিলেন। তার পরেও মনে করা হয় নারী আসলে এই পেশার সাথে যায় না! আজ ঢাকা শহর থেকে জেলা শহর ও থানা পর্যায়ে নারী যোগ্যতা প্রমাণ করে সাংবাদিকতা করছেন। কিন্তু তারা নারী সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা থেকে বের হতে পারছেন সামান্যই। পুরুষতান্ত্রিকতার এই শত প্রতিবন্ধকতা ঠেলে নিজের নামের সাথে সাংবাদিক পরিচয় জড়িয়েছেন যারা তাদের নিয়ে গত ২০ মার্চ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৫২জন সাংবাদিকের আলোচনায় উঠে আসে অনেক কথা। তারই উল্লেখযোগ্য কিছু দিক নিয়ে এই প্রতিবেদন লিখেছে— রাবেয়া বেবী তারপরও নারী সাংবাদিক —আলপনা বেগম নেত্রকোনা আমি যখন কাজ করি তখনকার আর এখনকার পরিবেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে আমি নিজেকে একজন সাংবাদিক মনে করি নারী না। কোন এসাইনমেন্টে পিছু পা হই না। নিজে মোটরবাইক নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করে যাই, করতে হয়। প্রথম যে কথা আমাদের শুনতে হয় তা হল আমাদের চরিত্র ভার না। এই অপবাদ মাথায় নিয়ে যখন কাজ প্রমাণ করে আমি আজকের অবস্থায় আসি তখনও নারী হিসেবে আমার মূল্য দিতে হয়। অতি সমপ্রতি রাজনৈতিক এক এসাইনমেন্ট করে আমি তেমনি পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। আমি নারী বলেই আমার নিউজের জন্য আমাতে ধরে নিতে আসে। কোনমতে নিজের বাইকে নিজেকে বাঁচাতে পারি। অনেক হুমকি ধমকি উপেক্ষ করে আজ প্রেসক্লাবের জয়েন সেক্রেটারি হয়েছি। কিন্তু নারী সাংবাদিকতার বৈষম্য থেকে আজও বেরিয়ে আসতে পারিনি। বোরকাওয়ালীদের সাংবাদিক হতে নেই —মাসুদা আক্তার পিরোজপুর নারী হিসেবে কেউ কেউ বাড়ি থেকে বৈষম্যের শিকার হলেও আমার আঘাতটা আসে কর্মক্ষেত্র থেকে। আমার স্বামী নিজে সাংবাদিক হওয়ায় এবং আমি বলবো নারীবান্ধব মানসিকতা থাকার জন্য সে আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রেরনা দেয়। আমি একটি টিভি চ্যানেলের সাথে কাজ করার সময় নানারকম প্রবঞ্চনার সম্মুখীন হই। প্রথমেই আসে আমার পোশাকের কথা। আমি হিজাব পরি বলে আমাকে শুনতে হয়েছে বোরকাওয়ালী আবার কিসের সাংবাদিক? একবার একটি এসাইনমেন্ট আমি সময় মতো দিতে পারিনি বলে আমাকে বলা হয় অন্যরা পারলে আপনি কেন পারবেন না। সেদিন আমার রাগ হয়েছিল খুব। কারণ নারী হিসেবে নয় সাংবাদিকদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমি আমার সংসার ভাঙ্গনের মতো পরিস্থিতিও অতিক্রম করি। কারণ ওরা বলে আমি ভালো না। তবে আমার স্বামীকে আমি বোঝাতে পেরেছিলাম তুমি সাংবাদিক হয়ে তোমার মেয়ে সহকর্মীদের সাথে চলাফেরা করলে খারাপ না হলে আমিও খারাপ নই। কিন্তু তাদের আমরা আমাদের প্রয়োজনে পাই না। আজ আমি বোরকার মধ্যে থেকেই আত্নবিশ্বাসের সাথে কাজ করে চলছি। চেহারার জন্য বৈষম্যের শিকার হতে হয় —চিং মে প্রু মারমা খাগড়াছড়ি নারী হিসেবে রাজনৈতিক, ভৌগোলিক, প্রতিহিংসাতো আছেই, আবার অনেক সময় আমাদের চেহারার জন্য বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আমাদের নানাভাবে দমন করতে চায় সবাই। সব কিছু উতরে উঠতে পারি যদি আর্থিক নিরাপত্তা থাকে। যা আমাদের বেশিরভাগ সময়ই থাকে না। জীবনের প্রয়োজনে যখন পথে নামি তখন একটা ভয় কাজ করে, চাকরিটা আমার থাকবে তো! তাই আমি বলতে চাই, যত কষ্ট থাক সহ্য করবো শুধু আমাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে দিন। কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিন। এক বছর কাজ করে টাকা পাইনি —শামীমা আক্তার ঢাকা একটি দৈনিক পত্রিকা বের হচ্ছে চাকরি হবে সেই প্রত্যাশায় কাজ করতে শুরু করি। দিনের পর দিন এদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে একটি পয়সাও পাইনি। পরে তারা বাংলায় যোগ দেই। এখানে কাজ করার সময় আমি আমার বিয়ের আগে ও পরে পেশাগত কারণেই ভারত যাই। একসময় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করার তাগিদে আর টিভিতে যোগ দেই। নিজে প্রমাণ করি আমি নারী না সাংবাদিক যে কাজ দিয়েছে তাই করেছি। নাইট করতেও দ্বিধা করিনি। কাজ করলে দায়িত্বতো নিতে হবে। আজ আমার কোর্টে প্রতিবেদন করতে হয়। কোর্টে সবার সাথে সম্পর্ক ভাল। কেউ আমার সাথে খারাপ করলেও আমি তার সাথে নেই। আজ তুমি করবে কাল আমার পালা ঠিক বুঝিয়ে দিয়েছি।