সাজানো গোছানো বসার ঘর

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৪, ১৯:৪৯
অন্দরসাজ মানেই ইন্টিরিয়র ডিজাইনার অথবা বইপত্র ঘেটে নতুন ডিজাইনের হদিস খুঁজে বের করা। বৈঠকখানা, লিভিং রুম, ড্রয়িং রুম কিংবা বসার ঘর, যে নামই ব্যবহার করি না কেন, জমিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য আদর্শ এই ঘর। বসার ঘরের অন্দরসাজ কেমন হবে তা নির্ভর করবে আমাদের ফ্ল্যাটের আয়তন, লাইস্টাইল এবং বাজেটের ওপর। কেমন হবে আপনার বসার ঘর, তাই জানিয়েছেন নওশীন শর্মিলী মনে রাখবেন, বসার ঘরের অন্দরসাজ আমাদের রুচির প্রথম বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু বসার ঘর-বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই সফিস্টিকেশনের সঙ্গে সঙ্গে কমফোর্টের বিষয়টা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি নতুন বাড়ি বানান কিংবা কেনেন, তাহলে চেষ্টা করুন যাতে আপনার বাড়ির ড্রয়িং, ডাইনিং রুম দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হয়। এতে শীতের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে রোদ আসার ফলে ঘর গরম থাকবে এবং গরমের সময় বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে ঘরে ঢুকবে দক্ষিণের খোলা হাওয়া, যা খুবই আরামদায়ক। ফ্ল্যাটকে বড় দেখানোর জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ড্রয়িং ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা একসঙ্গে করা হয়। ডাইনিং এবং ড্রয়িং স্পেস আলাদা করার জন্য দুটি জায়গার মাঝখানে নানা রকমের পার্টিশন, বুক শেল্ফ বা ক্যাবিনেট দিতে পারেন। রঙের সঠিক ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারে ঘরের সৌন্দর্য। মনে রাখবেন উজ্জ্বল এবং হালকা রং ঘর বড় দেখাতে সাহায্য করে। যদি ঘরে সূর্যের আলো কম ঢোকে তাহলে কোনো ভাবেই দেয়ালে গাঢ় রং করাবেন না। ঘর আরও অন্ধকার দেখাবে। যদি গাঢ় রং করাতে চান তাহলে একটি দেয়ালে কমলা, লাল, হালকা নীল রং করে অন্য দেয়ালগুলোয় নিউট্রাল রং করান। কন্ট্রাস্ট রঙের ব্যবহারে ঘরের স্যাঁতসেঁতে এবং মনমরা ভাব দূর হবে। কালারফুল এবং ব্রাইট মোড আনার জন্য কন্ট্রাস্ট রঙের কুশন কভার অথবা পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। পর্দার ডিজাইন অনেকটাই নির্ভর করে জানালা-দরজার ডিজাইনের ওপর। ছোট ফ্ল্যাটে বেশি ভারী পর্দা ব্যবহার না করাই ভালো। রিচ ফেব্রিকের পর্দা লাগালে ঘরে একটি আলাদা আমেজ আসে। নিজের পছন্দের পাশাপাশি অন্য দেয়ালের রং ও আসবাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্নারের রং নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত অনেকেই বসার ঘরের দেয়ালজুড়ে হলুদ বা কমলা রং ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে ঘরের কর্নারে লাল রঙের প্লাস্টিক টাইলস অথবা শ্লেট ব্যবহার করতে পারেন। এরপর দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেরাকোটা বা পেইন্টিং কর্নারের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখুন। কোনায় রাখতে পারেন সুদৃশ্য পটারিতে গাছ। চাইলে পটারির পরিবর্তে রাখতে পারেন হালকা রঙের স্ট্যান্ডিং ল্যাম্পশেড। তবে পটারি বা ইনডোর প্ল্যান্টস, যেটাই রাখুন না কেন, খেয়াল রাখবেন এগুলো যাতে তিন থেকে চার ফুট আকৃতির লম্বা হয়। খেয়াল রাখা দরকার, মেঝেতে কার্পেট পাতলে ঘর অনেক বেশি এলিগেন্ট লাগে। বাজেট কম থাকলে শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের কর্নারগুলোতে রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্টস, বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পশেড এবং ফুলদানি। ঘরের ইন্টিরিয়র প্ল্যান করার আগে লাইটিংয়ের ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। আলো-ছায়ার ম্যাজিক তৈরি করতে চাইলে সাদা, লাল, কমলা, গোলাপি বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করুন। আর বিশেষ অংশ হাই লাইট করার জন্যে স্পট লাইট লাগান।