কল্পনার জগতে বেড়ে ওঠা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৪, ১৯:৫০
ছোটরা যত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে উঠবে, বড়দের ততই যেন সুবিধা। তবে তাকে টেনে হিঁচড়ে বড় না করে তুলে, কল্পনার পাখায় ভর দিয়ে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দিন। নিজের ব্যস্ত জীবনে নিজের সন্তানের সুন্দরভাবে বড় করে তোলার জন্য রইল কিছু টিপস। লিখেছেন আহসান রনি জন্মের পর থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্তই হচ্ছে একটি শিশুর শৈশব। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত শিশুর মনোজগতে নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়, সেখানে অনেক প্রশ্নের অবতারণা হয়। পারিপার্শ্বিক জগত্ এবং তার সৌন্দর্য দেখে শিশু অভিভূত হয়। তার জানার চেষ্টা বেড়ে যায়, কৌতূহলী মনোভাবের সৃষ্টি হয়। নিষ্পাপ, নির্মল মনের শিশুরা জগতের লোভ-লালসা, কালিমা থেকে মুক্ত থাকে। শৈশবকালে শিশুরা খেলাধুলায় মেতে থাকতে চায় সবসময়। শৈশবে সৃজনশীলতার বিকাশও দ্রুত হয়। এ সময় পরিবেশের উদ্দীপনা, চাঞ্চল্য এবং গাইডেন্সের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে মা-বাবা শিশুর জীবনের সৃষ্টিশীলতা গতিশীল করার জন্য, জাগিয়ে তোলার জন্য নানাভাবে সহায়তা করে থাকেন। নিজের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও নিজের বাচ্চাটিকে ভালোভাবে বড় করে তোলার জন্য কিছু সহায়তা তাকে করতেই হয়। তবে শিশুকে কখনই নিয়মের নিগড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা উচিত নয়। তবে একদম ছেড়ে দেওয়া নয়। নিজের সন্তানকে খানিকটা নিঃশ্বাস ছাড়বার জায়গা করে দিতে পারেন একমাত্র আপনিই। সেই সঙ্গে রোমন্থন করতে পারেন নিজের শৈশবের স্মৃতি। পেরেন্টিং টিপস  বাচ্চার বয়স দুই পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই সে কল্পনার জগতে প্রবেশ করার অনুমতি পেয়ে যায় কোনো অনুমতিপত্র ছাড়াই। এ সময় থেকেই বাচ্চা বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে। অনেক সময় না দেখা জিনিসকেও বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করে বা ছোট ঘটনাকে অনেক বাড়িয়ে বলে। এই চেষ্টাকে ডিসকারেজ করা যাবে না। এগুলো কিন্তু মিথ্যা কথা নয়। যখন ও কথাগুলো বলে তখন মন দিয়ে শুনুন। প্রশ্ন করুন। আপনি ওর কথাগুলো সিরিয়াসলি নিলে ওর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং এর ফলে আপনার সাথে তার একটা সুন্দর বন্ডিং গড়ে উঠবে। এভাবেই আপনারা একে অপরকে বুঝতে শিখবেন।  ছবি আকা, রং করা, কাদামাটি দিয়ে খেলার মাধ্যমে শিশুরা সৃজনশীলতা বিকাশে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায়। কোনো মডেলকে হুবহু নকল করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। মডেলকে নকল করলে অবধারিতভাবে শিশুর সৃজনশীল প্রতিভা অঙ্কুরেই থেমে যাবে। এ কারণে আপনার উচিত বস্তুগত উপাদান ব্যবহারে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, সেগুলো ব্যবহারের কৌশলটি ধরিয়ে দেওয়া—শিশু নিজস্ব ঢঙ্গেই আনন্দের মাধ্যমে ব্যবহারিক পথ উন্মোচন করে নেবে। এখানে শিশুর নিজস্ব ধারণা ও কল্পনাশক্তি নিয়ন্ত্রিত পথে ব্যবহূত হবে, শিশুর সামনে এনে দেবে আনন্দময় একটি ফলাফল।  বাচ্চা যখন কোনো কিছু বানানোর জন্য আপনার কাছে সাহায্য চাইবে আপনি কেবলমাত্র ‘ধারণা’ দিয়েই তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। সৃজনশীলতা শিশুর মন উদ্দীপ্ত করবে। ‘ধারণা’টুকু সে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে ব্যবহার করে নতুন কিছু সৃষ্টি করে নিতে সমর্থ হবে। সুন্দরভাবে যদি হাতের কাজটি সম্পূর্ণ হয়, শেষ ফলাফলও হবে আকর্ষণীয়। এভাবে কেবলমাত্র প্রয়োজনে ‘ধারণা’ দিয়ে তাকে উত্সাহিত করা যায়, সহযোগিতা করা যায়।  শিশুকে শেখানোর দায়িত্ব আপনার নয়, এটি মনে রাখবেন। তাকে পথটি দেখিয়ে দেয়ার মূল কাজই আপনি করেছেন মাত্র। সৃষ্টিশীল গতিশীলতা তার হাতে ছেড়ে দিন। কাজটির জন্য প্রেসার তৈরি করবেন না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি শিশুকে নিজের ধারণা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। তাকে সবসময় নতুন কিছু ভাবার সুযোগ করে দিন।  দিনে পনের মিনিট সময় পেলেও বাচ্চাকে একটি সুন্দর গল্প শোনান। গল্পটা ভালো করে বুঝে নেওয়ার পর দুজনে মিলে গল্পের চরিত্রগুলোর ভূমিকায় অভিনয় করুন। গলা বদলে, নানা অঙ্গভঙ্গি করে গল্পটাকে চমত্কারভাবে অভিনয় করে দেখান। এতে সময়টা তো চমত্কার কাটবেই সাথে ও নানা রকম কল্পনা করার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে বাচ্চাকে নানা রকমের রূপকথার গল্প পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।  কঠিন শৃঙ্খলার ব্যারিকেড শিশুর সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পথ অবরুদ্ধ করে দেয়। কিন্তু শৃঙ্খলাবোধ কিংবা শিশুর সম্মতিতে আরোপিত শৃঙ্খলা এই বিকাশ উত্সাহিত করে। যে সকল শিশু রোমাঞ্চ অন্বেষণ করে বেড়ায়, ভয়াবহ কিছু দেখার বা আবিষ্কারের তাড়নায় ওঁত পেতে থাকে এ ধরনের শিশু সুযোগ পেলে জয় ছিনিয়ে আনবেই। সবসময় যাদের সতর্ক থাকার জন্য কড়াকড়ি আরোপ করুন, তাদের চেয়ে রোমাঞ্চ অন্বেষীদের সৃজনশীলতা বিকাশ বেশি গতিশীলতা পায়।  পারিবারিক বিষয়-আশয় কিংবা নিজস্ব মতামত জানানোর সুযোগ পেলে শিশুদের সৃষ্টিশীল বিকাশ সমৃদ্ধ হবে। আগেভাগে ঠিক না করে দিয়ে, বিকাশের পথ উন্মুক্ত করুন। সনাতন প্রথার চাপ শিশুর ওপর যত কম আরোপিত হবে ততই শিশুর সৃজনশীলতা সমুজ্জ্বল হওয়ার সুযোগ বেশি পাবে।  শিশুদের প্রতিটি পদক্ষেপকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। শিশুদের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ তৈরি করুন। কোন ব্যাপারটি শিশু কোনভাবে দেখছে, তা বোঝার ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে। অনেক সময়ই কল্পনার জগতে বসবাসের কারণে শিশুরা অসংলগ্ন প্রশ্ন করতে পারে; আপনার উচিত, সেই অসংলগ্ন প্রশ্নটিকেই সৃজনশীল উত্তরের দিকে নিয়ে যাওয়া।  শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মধ্যে সমঝোতা থাকা দরকার। দুজনের কারোরই শিশুদের কোনো কথা উড়িয়ে দেওয়া চলবে না বরং খুবই গুরুত্ব দিয়ে ওদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। দিনে অন্তত ওদের তিন-চারটি কাজের প্রশংসা করুন। ‘লক্ষ্মী মেয়ে’, ‘লক্ষ্মী ছেলে’, ‘বাহ!’, ‘চমত্কার তো!’—এ ধরনের প্রশংসাবাক্য ওদের ইতিবাচকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে।  প্রতিটি শিশুর চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা। শিশুর চরিত্র বুঝে তাদের সাথে ব্যবহারের ধরন বুঝে নিতে হয়। কিছু কিছু শিশু যেকোনো কাজে তাদের সক্ষমতা প্রকাশ করতে চায়। এরা সৃজনশীল মনোভাবের। দৌড়, ঝাঁপ, লাফালাফির মাধ্যমে অনর্থক আনন্দ প্রকাশ করে।