প্রতিদিনের জীবনে নানা কাজের মাঝে একটা কাজ আমরা অভ্যাসবশতই করে ফেলি—শরীরে বিভিন্ন সুগন্ধির ব্যবহার, রান্নাঘরের ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলে আসা ইত্যাদি। তারপরেও কিছু কিছু দ্রব্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ আমাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য দরকার কিছু সহজ পদক্ষেপের। আর তারফলে দুর্গন্ধ নয় বরং তাজা সুবাসে ভরে উঠবে আপনার ঘর-মন। লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল
গরম তাওয়াতে কিংবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ফয়েলের ওপর দারুচিনি রেখে গরম করুন। রান্নাঘরের কোনো আঁশটে গন্ধ বা বাড়ির কোনো বাসি আবহাওয়া নিমিষে বদলে যাবে।
মাছ ডিপ ফ্রিজে বেশিদিনের জন্য রাখতে চাইলে প্রথমে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। তারপর তাতে লবণ-হলুদ মাখিয়ে রেখে দিন। সামান্য ভিনেগার দিয়ে ফ্রিজে রাখলে মাছের বাসি গন্ধ হবে না, ডিপ ফ্রিজও আঁশটে লাগবে না।
অনেক সময় চিংড়ি মাছে এমন এক ধরনের গন্ধ হয় যা ধক করে নাকে লাগে। রান্না করার আগে বিশ মিনিটের মতো এতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ মাখিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার করে ধুয়ে রান্না করুন। মাছ বা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার রান্না করার আগে এইভাবে লবণ-লেবু দিয়ে মাখিয়ে নিন। এক্ষত্রে বিকল্প হিসেবে সরষের তেলেও দারুণ কাজ দেয়।
আচারের বোতলে আচার শেষ হয়ে গেলে পরিষ্কার করার পরও অনেকদিন আচারের গন্ধ থেকে যায়। এরফলে অন্যান্য জিনিস রাখলে তাতেও সেই গন্ধের ভাবটা দেখা যায়। একটা দিয়াশলাই জ্বেলে বোতলে ফেলে দিন। শক্ত করে বোতলের ঢাকনা বন্ধ করুন। কিছুক্ষণ পর সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে রাখুন। দেখবেন আচারের গন্ধ গায়েব!
ফ্লাক্সে প্রায়ই খুব বাজে গন্ধ হয়। সে ক্ষেত্রে ফ্লাক্স ধুয়েমুঝে এক চা-চামচ চিনি রাখুন। পরের বার ব্যবহারের আগে একবার ধুয়ে নেবেন।
বাড়িতে রং হলে প্রথম কয়েকদিন ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন রং হওয়া গন্ধ ঘরে পেঁয়াজ কেটে রাখুন। রঙের ঝাঁঝালো গন্ধ উবে যাবে।
ফ্রিজ অনেকদিন পরিষ্কার না হলে বা খাবারের ঢাকনা খোলা থাকলে অনেক সময় একটা দুর্গন্ধ বের হয়। কাটা লেবু বা এক বাটি ভিনেগার প্রতি র্যাকে বা কোনায় রেখে দিলে সেই গন্ধ আর থাকবে না।
বর্ষাকালে জামাকাপড় ভিজে থাকলে বেশ দুর্গন্ধ বেরোয়। ইস্ত্রি করার সময় স্টিম আয়রনে পানি ভরার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ওডিকোলনও ভরে নিন। দারুণ সুগন্ধমাখা পোশাক পাবেন। যাদের স্টিম আয়রন নয়, তারা পানি ছিটিয়ে ইস্ত্রি করার সময় পানির সঙ্গে ওডিকোলন মিশিয়ে নিন।
দুর্গন্ধ প্রসঙ্গে মুখের দুর্গন্ধের কথাও এসে যায়। মুখের দুর্গন্ধের অনেক কারণ হতে পারে—পেট পরিষ্কার না হওয়া, পেঁয়াজ-রসুন বেশি খাওয়া, দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধা, বেশি তামাক বা মদ খাওয়া ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। তা না হলে সাময়িক সময়ের জন্য রইল কিছু টিপস—
দিনে দুবার দাঁতমাজা, পানি দিয়ে বার বার কুলকুচি করা, পেটের জন্য ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি খেয়ে ভিতরের মলিন্য দূর করুন। ওষুধের দোকানে পাবেন মাউথওয়াশ, সেটি দিয়ে দিনে দু-তিনবার বা তার বেশিবার কুলকুচি করলে মুখের কিছু ব্যাক্টেরিয়া (দুর্গন্ধের কারণের জন্য দায়ী) অবশ্য নষ্ট হবে। দাঁতমাজার সময় কোনো মেডিকেটেড পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। লক্ষ রাখবেন, দাঁতে যেন কোনো খাবার আটকে না থাকে। চিনিহীন চুইংগামও আপনার দাঁত পরিষ্কার করতে পারে।
অনেক সময়ই জুতার দুর্গন্ধ লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছোট ফ্ল্যাট হলে টেকা দায় হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে জুতার মধ্যে পাইন পাতা ফেলে রাখতে পারেন। পাইন পাতা না পেলে লেমন গ্রাস অয়েল বা ওডিকোলন-ভেজা তুলাও হতে পারে।
সাবানের মোড়ক খুলেই ফেলে দেবেন না। এগুলোও জুতার বাক্সে কিংবা জুতা যে আলমিরাতে রাখেন তাতে রেখে দেবেন। বাক্স বা কাবার্ডের দরজা খুললেই বোটকা গন্ধের বদলে পাবেন তাজা হাওয়া।
