আমাদের সংসারের নানা প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করেন গৃহকর্মীরা। তাই তাদের সাথে স্নেহ-ভালোবাসা, সঠিক ব্যবহার বজায় রাখা জরুরি। তা না হলে এই তুচ্ছ অথচ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি অনেক সময় বিশাল বিভ্রাটের সৃষ্টি করে। তাই এবার এ নিয়ে থাকছে বিশেষ আয়োজন
আধুনিক জীবনের হাজারো ব্যস্ততা সত্ত্বেও সংসারের সবকিছু ঠিকঠাক চলার পেছনে গৃহকর্মীরাই আমাদের ভরসা। রান্না, ঘর পরিষ্কার, কাপড় কাচা থেকে শুরু করে সন্তানকে স্কুলে নেওয়া-আনা সব জায়গাতেই তাদের সহযোগিতা থাকে, তাই তাদের ওপরেই আমাদের নিয়ত নির্ভরশীল হতে হয়। দীর্ঘদিনের উপস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একজন হয়ে ওঠেন তারা। এজন্য গৃহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু সেজন্য এত ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো যাবে না যেন সে আপনার ভালো ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে। আসল কথা হলো গৃহকর্মীর সাথে প্রয়োজন মাফিক সুন্দর ব্যবহার করা। আর এতেই লুকিয়ে আছে গৃহকর্মী টিকিয়ে রাখার চাবিকাঠি।
মাসের শুরুতে বেতন দিন
মাসের শুরুতে গৃহকর্মীর বেতন দিয়ে দিন। তার চাওয়ার অপেক্ষা করবেন না। কখনও তার বেতন দেওয়া নিয়ে ঝামেলা করবেন না।
দায়িত্ব ভাগ করে দিন
একজন গৃহকর্মীর উপর সংসারের পুরো দায়িত্ব চাপিয়ে দেবেন না। প্রয়োজনে আলাদা আলাদা কাজের জন্য গৃহকর্মী রাখুন। এতে সুবিধা আপনারই। কোনোদিন যদি একজন না আসে তবে আপনি বেশি অসুবিধায় পড়বেন না।
খারাপ ব্যবহার করবেন না
গৃহকর্মীর সঙ্গে কখনোই খারাপ ব্যবহার করবেন না। ছোটরা কখনো খারাপ ব্যবহার করলে সঙ্গে সঙ্গে বুঝিয়ে বলুন। গৃহকর্মীর কোনো আচরণ আপনার ভালো না লাগলে তাকে সরাসরি বলুন। সরাসরি বলা মানেই কিন্তু খারাপভাবে বলা নয়। কোনো কিছু চুরি গেলে প্রথমেই ভাববেন না কাজটা গৃহকর্মী করেছে। ভালো করে বাড়ির সবজায়গায় খুঁজে দেখুন। পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তবে তার প্রতি অভিযোগ আনবেন।
ছুটি দিন
ছুটির প্রয়োজন আমাদের সবার পড়ে। তাই ছুটি নিয়ে কার্পণ্য করবেন না। মনে রাখবেন তাদেরও সংসার আছে, অসুস্থতা আছে। তাই কাজে রাখার আগেই জেনে নিয়ে ঠিক করুন আপনার গৃহকর্মী মাসে কত দিন ছুটি পাবে।
উত্সবে উপহার দিন
ঈদ বা যেকোনো উত্সবে গৃহকর্মীকে কিছু দিলে তার প্রয়োজন অনুযায়ী দিন। গৃহকর্মী সবচেয়ে সস্তার জিনিসটা দেবেন না। দেওয়ার আগে জেনে নিন, জিনিস না টাকা, কোনটা দিলে তার সুবিধা হয়।
ব্যবহারে ব্যালেন্স রাখুন
গৃহকর্মীরা যে ধরনের আর্থ-সামাজিক পরিবেশ থেকে আসেন, একটু গল্প করা, একটু কৌতূহলী হওয়া তাদের স্বভাবের অন্তর্গত। কিন্তু আপনি তার সঙ্গে তাল মেলাবেন না। পাশের ফ্লাটের সমস্যা বা অন্য বাড়ির কোনো কথা যদি ওঠে তাহলে কাজের অজুহাত দিয়ে সরে যান। যদি দেখেন তাও সে গল্প করতে উত্সাহী তবে তাকে সোজাসুজি বলে দেবেন আপনার এটা পছন্দ নয়।
পরিচয়পত্র রাখুন
গৃহকর্মীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিজের কাছে রাখুন। প্রয়োজনে থানাতেও এক কপি দিয়ে রাখুন। ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানার খোঁজ নিন তা সত্য কি না। ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন করে দেখুন। প্রয়োজনের সময় সেখানে যোগাযোগ করা যাচ্ছে কি না। ভোটার আইডি কার্ড নেই—এমন কাউকে কাজে নিযুক্ত করবেন না।
খেয়াল রাখুন
প্রথম থেকেই গৃহকর্মীকে বলে দেবেন কাজের সময় মোবাইলে বেশি কথা বলা আপনি পছন্দ করেন না।
আপনার অনুপস্থিতিতে অচেনা কাউকে যাতে বাড়িতে ঢুকতে না দেয় সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিন।
হঠাত্ কিছু না হলে ছুটি নেওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে আপনাকে জানাতে বলুন।
