বন্ধুত্বের প্রভাব

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৪, ১৯:৫২
বন্ধুদের কথায় চলা, দামি জিনিসের জন্য বায়না করা, কথায় কথায় বন্ধুদের উপহার দেওয়া। এই নেগেটিভ ইনফ্লুয়েন্সগুলো থেকে সন্তানকে মুক্ত করতে না পারলে হয়তো আপনার সন্তান বিপথে যেতে পারে। এসব থেকে মুক্ত করার কিছু সহজ উপায়ের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম বন্ধুত্ব হচ্ছে দুই অথবা তার অধিক কিছু মানুষের মধ্যে একটি সম্পর্ক যাদের একে অপরের প্রতি পারস্পরিক স্নেহ রয়েছে। বন্ধুত্বকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের খুব কাছের একটি অংশ ধরা হয়। আপনার সন্তানকে বন্ধু বাছাইয়ে কিছু সতর্কতার কথা জানাতে পারেন। যেমন, বন্ধুুত্বের যোগ্যতা যাচাইয়ে নিচের বিষয়গুলো জানানো যেতে পারে।  অন্যের ভালো কীভাবে হবে এই বাসনা থাকা, সহানুভূতি থাকা।  কঠিন সত্যের স্বীকার করে হলেও নিজের সততার প্রমাণ দেওয়া।  পারস্পরিক চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব দেওয়া, কম্প্রোমাইজ করার ক্ষমতা থাকা, মানসিক সমর্থন দেওয়া।  একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করা।  পারস্পরিক বিশ্বাস।  প্রয়োজনে সবার জন্য ইতিবাচক, গভীর কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করা। বন্ধুদের চেয়ে পরিবার আগে—এ ধারণাও সবসময় ঠিক নয়। এমনও দেখা গেছে ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের, বোনের সাথে বোনের চিন্তা-চেতনা কোনো কিছুরই মিল নেই। তাদের বাবা-মা এক—এছাড়া তাদের মধ্যে আর কোনো মিল পাওয়া যায় না। এমনও দেখা যায়, একজনের বিপদে ভাই-বোনদের বদলে বন্ধুই এগিয়ে আসে। কারণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে পছন্দের ভিত্তিতে। আর আত্মীয়রা একে অন্যের সাথে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। তাই অধিকাংশ সময় দেখা যায় বন্ধুরা বন্ধুদের যেভাবে বোঝে ও অনুভব করে আত্মীয়রা সেভাবে বোঝেও না, অনুভবও করে না। তবে কখনও কখনও ব্যতিক্রমও দেখা যায়। বিপদে বা দুঃসময়ে যে বন্ধুর মতো এগিয়ে আসে, অনেক সময় বিপদ কেটে গেলে বন্ধুত্বের সেই তীব্রতা থাকে না। কোনো কোনো মনোবিজ্ঞানী বলেন, দুঃসময়ের বন্ধুত্ব সুসময়েই ভেঙে যায়। কারণ সুস্থ বন্ধুত্ব দেওয়া-নেওয়ার উপর নির্ভরশীল। বন্ধুরা পালাক্রমে উত্সাহ, উদ্দীপনা, সহানুভূতি দেয় এবং নেয়। কিন্তু কোনো কোনো মানুষ সহানুভূতি দিতে চায়, নিতে চায় না। আবার কেউ কেউ অচেতনভাবে কামনা করে বন্ধু যে ভাবাবেগজনিত সমস্যা বা দুঃসময়ে পড়েছে তা অব্যাহত থাকুক যাতে সে ক্রমাগত সহানুভূতি বিলিয়ে যেতে পারে। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বন্ধু যখন খারাপ মানসিক অবস্থা থেকে ভালো অবস্থার দিকে এগোতে শুরু করে তখন ওই ‘ত্রাণকর্তা’ বন্ধুটি নিজের অজ্ঞাতসারে সুপরিবর্তনকে স্যাবোটাজ করতে চেষ্টা করে। লক্ষ্য একটিই—যাতে বন্ধুত্বের ধারা অপরিবর্তনীয় থাকে।