লাল সূর্যকে ঘিরে রেখেছে সবুজের বিস্তার। যেন অজস্র সবুজ সম্ভাবনায় প্রকৃতি তার দু’বাহুতে আগলে রেখেছে জীবনের আলো। তরুণদের কাছে এই রং সাহস এবং স্বপ্ন হয়ে ধরা দিয়েছে। তাই এ পতাকা যেন দেশ এবং দেশের বাইরে থাকা কোটি কোটি বাঙালির অহংকার। আর এই অহংকার সযত্নে এ জাতি ধরে রেখেছে যুগের পর যুগ। ফলে আজ এই পতাকার রং ও আমাদের অহংকার স্পর্শ করেছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত। লাল-সবুজের এ পতাকা এভাবেই আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে গত চল্লিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে। বাঙালি জাতি এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। সেদিন হাজার হাজার মানুষের রণহুঙ্কার ও রক্ত-অঙ্গীকার কাঁপিয়ে দিয়েছিল এই বাংলার প্রতিটি প্রান্তর। কোটি কোটি মানুষের আকাশে সেদিন উড়েছিল এই লাল-সবুজ পতাকা। তাই আমাদের এ পতাকা নিছক স্বাধীনতা নয়, আমাদের অস্তিত্বের অবলম্বন। এর রয়েছে এক ভিন্ন ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এই পতাকার ডিজাইন ও নকশা ছিল অন্য রকম। সবুজ রঙের উপর আঁকা বৃত্তাকার লাল রঙের মধ্যে হলুদ রঙে আঁকা ছিল বাংলার মানচিত্র। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি তা পরিবর্তন করে হলুদ রঙে আঁকা বাংলার মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। আমাদের পতাকার এইরূপ আজও অপরিবর্তিত আছে সগৌরবে। আমরা কি জানি, আমাদের গৌরব এবং ভালোবাসার এ পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম আছে। এই পতাকার মাধ্যমে আমরা আমাদের আনন্দ ও শোকের বহিঃপ্রকাশও ঘটিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিশেষ বিশেষ দিনকেও আলাদা করে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকি। বিশেষ করে আমাদের বিভিন্ন জাতীয় দিবস যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পতাকা উত্তোলন করা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ কাজ করে। এসময় দেখা যায় বাড়িতে বাড়িতে এমনকি গাড়িতে গাড়িতে ভালোবেসে মানুষ পতাকা উড়িয়েছে। যদিও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই পতাকা উত্তোলন করা হয়। আবার একুশে ফেব্রুয়ারি বা জাতীয় কোনো শোক দিবসে শোক প্রকাশের নিমিত্তেও আমরা পতাকে উত্তোলন করি, তবে সে ক্ষেত্রে আমরা পতাকাকে অর্ধনির্মিত রেখে শোক প্রকাশ করে থাকি। গাঢ় লাল ও সবুজের মিশেলে অঙ্কিত এ পতাকার তৈরি করার ক্ষেত্রেও আছে কিছু নিয়মনীতি। আসলে এই নিয়মনীতি মেনে চলার মধ্য দিয়েই পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। তবে নিয়ম পালনে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি করা নিয়ম অনুযায়ী পতাকার রং হতে হবে গাঢ় সবুজ। মাঝে লাল রংয়ের বৃত্ত। পতাকার সাইজের উপর নির্ভর করে পতাকার ভেতরের লাল বৃত্ত হবে। এর সবকিছুই পুরো পতাকার আকৃতির উপর নির্ভর করে। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, পতাকার মাপ হবে ১০ :৬ ফুট, ৫ :৩ ফুট, ২.৫ :১.৫ ফুট। অর্থাত্ পতাকার দৈর্ঘ এবং প্রস্থের অনুপাত হবে ১০ :৬। এ অনুপাতে পতাকার মাঝখানে লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট। পতাকার দৈর্ঘ যদি ১০ ফুট হয় তবে বাম দিক থেকে তা সাড়ে চার ফুট দূরত্বে বৃত্তের কেন্দ্রের অবস্থানে হবে। পতাকার প্রস্থ ৬ ফুট হলে বৃত্তের কেন্দ্র হবে মাঝামাঝি অবস্থানে। অর্থাত্ ৩ ফুট দূরত্বে। অর্থাত্ সব কিছু মিলিয়ে বলা যায় যে, জাতীয় এই প্রতীক তৈরি করার ক্ষেত্রেও নিয়মনীতি মেনে চলা জরুরি। আর নিয়মনীতি মেনে চলার মধ্য দিয়েই পতাকার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়।
