শিশু সন্তানকে সচেতনতা শেখানো খুব সহজ কাজ, আবার খুব কঠিনও। কীভাবে? খুব সহজ কারণ শিশুকে যাই শেখাবেন তাই শিখবে। আর খুব কঠিন এই জন্য যে ওই একই আচরণগুলো আপনাকেও চর্চা করতে হবে। তবে আপনার জন্য কঠিন তখনই হবে যদি আপনি সেটা মন থেকে না চান। আর খুবই সহজ হবে যদি মন থেকে চান। আর তাই আপনার সন্তানকে যদি সচেতনভাবে গড়ে তুলতে চান আগে নিজেকে পাল্টাতে হবে। নইলে আপনার শিশু বিভ্রান্ত হবে। এ নিয়ে রইল কিছু পরামর্শ
শিশু বলতে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় আসে তা হলো দুরন্তপনা। সাধারণত তারা হয় কিছুটা চঞ্চল প্রকৃতির। সেইসাথে এও বলা যায়, শিশুরা তীক্ষ বুদ্ধিরও অধিকারী। কিন্তু সাধারণত এসব ভাবাবেগ, নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে উঠতে তাদের কিছুটা সময় লেগে যায়। আর এ সময়টাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মা-বাবার পরিচর্যা, আদর ও শাসন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় শিশুদের এ দুরন্তপনা অনেক মা-বাবার বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। আবার অনেক সময় তারা বুঝে ওঠে না যে, কীভাবে তাদের শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর নব্য মা-বাবার ক্ষেত্রে সেটা কাজ করে বেশি। তারা ভাবতে থাকে শিশুদের পরিচর্যার তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আমাদের জন্য রয়েছে কিছু পরামর্শ। শিশুদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়টা শুনে আপনার ভাবনার কিছু নেই। নিজ হাতে ঠিক করে খাবার খাওয়া, পড়ার পরে বইপত্র গুছিয়ে রাখা, নিজের জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখার মতো ব্যাপারগুলোও কিন্তু সচেতনতার মধ্যেই পড়ে। সুঅভ্যাসের মাধ্যমেই আপনি শিশুর মধ্যে এই দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারবেন। শুরুতে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা মানে এই নয় আপনি জোর করে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন। শিশু যাতে ভালোবেসে নিজের থেকেই কাজগুলো করতে উত্সাহী হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনি ওর পাশে থাকুন, সাহায্য করুন। দেখবেন ও আপনার সহযোগিতা পেয়ে নিজে থেকে সচেতন হয়ে উঠবে। প্রায়ই দেখা যায়, মা-বাবা ও শিশুদের একে অপরের প্রতি অভিযোগ যে, তারা কথা শোনে না অথবা তাদের গুরুত্ব দেয় না। ব্যাপারটা শিশুদের কচি মনে প্রভাব ফেলে। সেজন্য এমন আচরণ করা উচিত, যাতে তাদের মনে হয় তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তারা যদি কোনো কথা বলতে চায়, তবে হাতের কাজ ফেলে তাদের কথা শোনা উচিত। এমনটা করলে পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করা যেতে পারে।
কিছু টিপস
এই যেমন ধরুন আপনি কি চাইছেন আপনার সন্তান বড়দের দেখলে সালাম দিক বা কেউ সালাম দিলে সে সেই সালামের উত্তর দিক সঠিক করে। খুব সহজ পদ্ধতি এই যে, আপনি সালাম দিন এবং সালামের উত্তর দিন। শিশুকে বলে বলে শেখাবার দরকার নেই এই আচরণটি।
মানুষ মাত্রই নেগেটিভ আচরণের কাজ করবে সেটা মাথায় রাখবেন। তার মানে আপনার শিশু যখনই কোন নেগেটিভ আচরণের কাজ করছে বা করবে সাথে সাথে হুংকার চিত্কার দেওয়ার কিছু নেই। তার কাজটি যে ভালো কাজ নয় সেটা তাকে বোঝান। বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলুন যে ছোটবেলায় আপনি অমন বাজে কাজটা করতে গিয়ে আপনার বা আপনার কোন বন্ধুর কী হয়েছিল। এইভাবে মোটিভেট করুন।
তার বিভিন্ন ভালো কাজের প্রশংসা করুন। আপনার শিশুটি যে খুবই ভালো মেয়ে বা ছেলে সেটা তাকে বলুন। সে যখনই কোনো ভালো কাজ করবে অমনি তার কাজের প্রশংসা করুন।
আপনি যদি কোনো প্রকার ভুল করে ফেলেন তবে সরি বা দুঃখিত বলুন। আপনি সরি বলার অভ্যেস না করলে সেও বলবে না। সে ধরেই নেবে সরি বলা খুবই অপমানজনক কাজ। আপনি তার মা-বাবা বলে সন্তানকে সরি বলা যাবে না এমন ধারণা আপনার মাঝে থেকে থাকলে তা ঝেড়ে ফেলুন।
শিশুকে যখন কিছু আদেশ দেবেন ‘প্লিজ বা দয়া করে’ এই ধরনের শব্দের সাথে তাকে আদেশ করুন।
যদি আপনি হন বাসার বড় কর্তাগণের একজন তবে আপনার প্রভাব শিশুর উপর একটু বেশিই পড়তে পারে। আর তাই আপনি কীভাবে বাসার আর সকল সদস্যদের সাথে আচরণ করছেন সেটাও খুব জরুরি।
