ঈদের ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি

শুরুতেই অব্যবস্থাপনা, অ্যাপেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকিট

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ২২:৪৭

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য রেলওয়ের আগাম টিকিট বিক্রি গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে যেভাবে প্রচারণা চালিয়েছিল,  শুরুটা সেভাবে হয়নি।  প্রথমদিন ছিল চরম অব্যবস্থাপনা।

যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবারই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের বাইরে আরো ৪টি জায়গা থেকে টিকিট বিক্রি চলছে। পাশাপাশি ই-টিকিটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই রেলসেবা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে চরম বিপত্তি ঘটে।  আর ই-টিকিট সংগ্রহ করতে না পেরে অনেকেই উপস্থিত হন রেলস্টেশনে। কমলাপুর স্টেশনে কাউন্টারে মঙ্গলবার  রাত থেকেই অপেক্ষমাণ টিকিট প্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগ দেন তারা। গতকাল বুধবার বিক্রি হয়েছে ৩১ মে যাত্রার টিকিট। আজ বৃহস্পতিবার বিক্রি হবে ১ জুনের টিকিট। আর শুক্রবার ২ জুনের, ২৫ মে ৩ জুনের ও ২৬ মে ৪ জুনের টিকিট দেওয়া হবে।

কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী

এ দিকে গতকাল বেলা সাড়ে দশটার দিকে  কমলাপুর স্টেশনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শনে যান রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় তিনি (রেলপথ মন্ত্রী ) নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে আগামী ৩১ মের ঢাকা-পঞ্চগড়ের টিকিট কেনেন। পরে তিনি আগাম  টিকিট কিনতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শোনেন তাদের নানা অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা। সব অভিযোগ ছিল রেলসেবা অ্যাপ নিয়ে। তিনি অ্যাপের মাধ্যমে রেলের কাঙ্ক্ষিত  টিকিটসেবা দিতে না পারায়  দুঃখ প্রকাশ করেন।

 রেলসেবা অ্যাপসের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী  বলেন, ‘অ্যাপসে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসের সঙ্গে ২০০৭ সাল থেকে চুক্তি করা আছে।  তারা সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।  এজন্য তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর বাড়ানো হবে না। তবে ব্যর্থতার দায় আমরাও এড়াতে পারি না। আমরা দুঃখিত। শিগগিরই সিএনএসবিডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও অ্যাপসের মাধ্যমে আসন থাকা সাপেক্ষে অবশিষ্ট টিকিট ২৭ মে বিক্রি করা হবে।’ 

অপর এক প্রশ্নের ব্যাপারে রেলপথমন্ত্রী বলেন,  টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতির  নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অভিযান

এর আগে বেলা ১০টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন। তারপর তারা রেল স্টেশন ম্যানেজারসহ রেলের ও সিএনএসবিডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সাড়ে ১২টার দিকে তারা চলে যান । যাওয়ার আগে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আমরা এসেছি। তবে অভিযোগগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ও অনলাইনে টিকিট কিনতে না পারার; কাউন্টারে টিকিট বিক্রি নিয়ে তেমন অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে  আমরা সিএন?এস’র কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাইনি।

পাঁচ স্থান থেকে টিকিট বিক্রি

 রাজধানীর পাঁচ স্থান থেকে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এসব জায়গায় পর্যাপ্ত বুথ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে কমলাপুর স্টেশন থেকে যমুনা সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী সবকটি ট্রেনের টিকিট। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। তেজগাঁও স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তঃনগর ট্রেন, বনানী স্টেশন থেকে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন ।  ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

‘এখানে টিকিটের সুপারিশ করা হয় না’

ঈদ  টিকিট পেতে রেলমন্ত্রীকে তার নিজের মেয়েই একটি তালিকা দিয়েছিলেন, যা তিনি গ্রহণ করেননি। আর মন্ত্রীর একান্ত সচিবের (পিএস) আতিকুর রহমানের স্ত্রীর মাধ্যমে অনুরোধ এসেছিল টিকিটের। পিএস সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রেলপথমন্ত্রীর  পিএস রেলভবনের তার অফিস কক্ষের দরজায় লিখেও রেখেছেন—‘এখানে টিকিটের সুপারিশ করা হয় না।’ এ ব্যাপারে রেলমন্ত্রী নিজেই বললেন, মন্ত্রী হিসেবে চাপ আমার উপর বেশি। কিন্তু আমাকে তো একটা সিস্টেমের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। অনিয়মটাকে তো আর নিয়মে পরিণত করতে পারি না।

অপরদিকে পিএস আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন  টিকিট দেওয়ার সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করতে করতে বহু বন্ধু-আত্মীয়-সহকর্মীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে।