চাল আমদানি নিরুত্সাহিত করতে শুল্ক দ্বিগুণ হলো

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ২২:৪৯

চাল আমদানি নিরুত্সাহিত করতে বিদ্যমান শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশে উন্নীত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সিদ্ধান্তে চাল আমদানি নিরুত্সাহিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৩ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। এতে দেশীয় কৃষকরা উত্পাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদেরকে আর্থিক ক্ষতি হতে রক্ষা করতে শুল্ক বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পর চালের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।  আমদানি শুল্ক উঠিয়ে নেওয়ার পর গত দুই বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন চাল আমদানি হয়। গতবছর নভেম্বরে সরকার ফের চালের উপর ২৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক পুনর্বহাল করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সমানতালে চাল আমদানি চলছে।

দেশে চাহিদার তুলনায় গত কয়েক বছর ধরেই ফসলের উত্পাদন বেড়েছে। অথচ একই সময়ে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি করা হচ্ছে। ফলে চাহিদার চাইতে যোগান বেশি হওয়ায় ধানের বাজারে ধস নেমেছে। চলতি বোরো মৌসুমে প্রতিমণ ধানে কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে অন্তত দু’শ টাকা। এসময় চালের অবাধ আমদানির সুযোগ থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। আবার উদ্বৃত্ত চাল রপ্তানির কথা বলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে চাল আমদানির শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিলো এনবিআর।

এতদিন চাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়াও ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (রেগুলেটরি ডিউটি বা আরডি) ছিল। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি আরডি ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে কর দাঁড়াচ্ছে ৫৫ শতাংশে।

প্রসঙ্গত, এ বছর চালের উত্পাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। প্রতিবছর দেশে চালের চাহিদা প্রায় ৩ কোটি টন। গত কয়েক বছর ধরেই দেশে উদ্বৃত্ত চাল থাকছে।