ফিল্ডিং মিসের মিছিল ও শেষ ওভার

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১১
জন্টি রোডস কমেন্ট্রিবক্সেই বসে ছিলেন। বুকের ভেতরটা কী কেঁপে উঠেছিল তার? কাভারে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম ইকবাল ডান দিকে উড়ে গিয়ে যেভাবে ব্র্যাভোর ক্যাচটা তালুতে নিলেন, তাতে জন্টি রোডসের নাম না এসে পারেই না। সারা পৃথিবীতে এখনও এই ধরনের বাজ পাখির মতো ক্যাচ নেওয়াটাকে জন্টি রোডসের ব্যাপার স্যাপার বলে মনে করা হয়। তামিম ইকবাল গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে সেই রোডসকেই যেন কমেন্ট্রিবক্স থেকে মাটিতে টেনে নিয়ে এলেন। শুধু এই একটা ক্যাচ নয়। বাংলাদেশের তরফে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে সবচেয়ে ঘটনাবহুল ও ইতিবাচক ওভারটাই হল এই শেষ ওভারটা। এর আগের অন্তত চারটে ক্যাচ মিস, গাদা গাদা ফিল্ডিংস মিসের মাশুল দিতে গিয়ে বাংলাদেশ রীতিমতো ধুঁকছিল ১৯ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু ‘ডেথ ওভারের’ বোলার বলে এরই মধ্যে নাম করে ফেলা আল আমিন শেষ ওভারটাই যেন ভেল্কি দেখানোর জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন। এই ওভারে নিজে তুলে নিলেন ৩টি উইকেট এবং একটি রান আউট হল। সবমিলিয়ে আল আমিনের এই শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪ রান তুলতে পারলো। ফলে দানবীয় হতে যাওয়া স্কোরটা হঠাত্ করেই যেন ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭১ রানে থমকে গেল। আল আমিন এই ওভার দিয়ে ফিরিয়ে আনলেন ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোহাম্মদ আমিরের সেই শেষ ওভারে ৫ উইকেটের স্মৃতি। সেদিন আমিরও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। তবে একটি রানআউট করেছিলেন এবং প্রথম ও শেষ দুই বলে করে চারটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন! ক্রিস গেইল থাকার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দানবীয় আকারটা ধারণ করেছিলেন আরেক ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ। ৪৩ বলে স্মিথের ৭২ রানে উড়ন্ত সূচনা পেয়ে যায় ক্যারিবিয়রা। উল্টো দিকে একেবারে নিশ্চুপ ক্রিস গেইল। ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে চার মারার আগ পর্যন্ত এই ব্যাটিং দানবের রান ছিল ৩৮ বলে ২৬ মাত্র! সেখান থেকে একটু সামলে নিয়ে আউট হওয়ার আগে ৪৮ বলে ৪৮ রান করে তামিমের প্রথম অসাধারণ ক্যাচের শিকার হয়ে ফিরলেন। জিয়ার বলে বাউন্ডারি লাইনে প্রথমে তামিম বলটা ঠেকিয়ে শূন্যে পাঠালেন। এরপর ফিরে এসে ক্যাচ হাতে নিলেন! এই গল্পটা গৌরবের হলেও ফিল্ডিংটা ইনিংসজুড়ে মোটেও এমন গৌরবের ছিল না। এক রিয়াদই ১৯তম ওভারে পরপর দুটি ক্যাচ ফেললেন লং অফে; জিয়ার বলে। দুটিই চার হয়ে গেল! এ ছাড়া মুশফিক ছাড়লেন দুই দুটি বাই চার। জিয়া নিজেই শেষ ওভারে এসে আল আমিনের বলে ক্যাচ ছেড়েছেন; অবশ্য চেষ্টাটার প্রশংসা না করা অন্যায় হয়। প্রশংসা এই ইনিংসে আর কারো প্রাপ্য হলে সেটা অবশ্যই স্মিথ। সাধারণত গেইলের আড়ালে হারিয়ে যান এই ক্যারিবিয় ওপেনার। গতকালও গেইলের কথা ভেবেই সোহাগ গাজীকে একাদশে ডাকা হয়েছিল। স্মিথ যেন সঙ্গীর হয়ে জবাব দিতে সোহাগের ওপরই চড়াও হলেন বেশি। সোহাগের ১২টি বল থেকে ৬টি চারসহ তুলে নিলেন তিনি ২৭ রান! সোহাগ অবশ্য গেইলকে সামলেই রাখতে পেরেছিলেন। গেইলকে ১২ বলে দিয়েছেন মাত্র ১১ রান; এর মধ্যেও অবশ্য একটি ছক্কা আছে। অবশ্য বোলারদের কষ্টটা অনেকটাই ঘুচিয়ে দিয়েছেন আল আমিন। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা যে কষ্ট দেবেন বলে ঠিক করেই রেখেছিলেন। তার কী হবে!