এন শ্রীনিবাসনকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছে সেদেশের সর্বোচ্চ আদালত। মূলত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর ফিক্সিং তদন্ত আরো নিরপেক্ষভাবে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে তাকে বিসিসিআই’র সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে বললো ভারতের সুপ্রীম কোর্ট। শুধু তাই নয়, এই আদালত তাকে এ জন্য দুইদিনের সময়ও বেঁধে দেন।
ভারতের সুপ্রীম কোর্টের দুই সদস্যের এক বেঞ্চ গতকাল এ নির্দেশনা দেন। ২৭ মার্চ আইপিএল ফিক্সিং সম্পর্কিত শুনানি আবার শুরু হবে। এর মধ্যে তিনি বোর্ড প্রধানের দায়িত্ব যদি না ছাড়েন তাহলে, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে জানিয়েছেন, সুপ্রীম কোর্ট বিচারপতি এমবি পাটনায়েক।
শ্রীনিবাসনের জামাই চেন্নাই সুপার কিংসের অন্যতম মালিক গুরুনাথ মেইয়াপ্পানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বেটিং কেলেঙ্কারি ও দলের তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। বিচারপতি মুকুল মুদগলের নেতৃত্বাধীন কমিটির পেশ করা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই এ বিষয়ে আদালতে শুনানি চলছে।
আদালতে বিষয়টির পর্যবেক্ষণে পাটনায়েক বলেন, ‘শ্রীনিবাসনের উচিত সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো। যদি তিনি সেটা না করেন, তাহলে আমরা কোর্টের আরেকটি নির্দেশনা দিতে বাধ্য হব।’
বোর্ড প্রধান হিসাবে শ্রীনিবাসনের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগের পরও তিনি কিভাবে বোর্ডের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান? তিনি যদি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান তাহলে সেটা হবে ক্রিকেটের জন্য লজ্জাজনক।’
কেন শ্রীনিবাসনের সরে যাওয়া প্রয়োজন তার ব্যাখ্যায় পাটনায়েক বলেন, ‘আমরা যে প্রতিবেদনটি পেয়েছি সেখানে নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তবে সন্দেহগুলো এতই ভয়াবহ যে এখানে অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। আর সেটা বিসিসিআই নিজে করতে পারে না। নিরপেক্ষতার জন্যই এটি বাইরের কোন প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করা দরকার। একারণেই আমরা বলছি, শ্রীনিবাসনকে অবশ্যই সরে দাঁড়াতে হবে।’
বেঞ্চের অন্য বিচারক ইব্রাহিম কালিফুল্লাহ বলেন, ‘যদি আমরা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই তাহলে এন শ্রীনিবাসনের ইস্তফা দেয়ার কোন বিকল্প নেই।’
কঠিন ভাষায় কোর্টের এই সমালোচনায় অনেকটা অবাকই হয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের একটি সভায় যোগ দিতে এই মুহূর্তে দুবাইতে অবস্থান করায় ধারণা করা হচ্ছে তারা দেশে ফেরার পর আগামীকালই এ নিয়ে জরুরি সভা করবে বোর্ড। তবে, বিসিসিআই’র দুই সহ-সভাপতি রবি সাভান্ত ও শিবলাল জাদব জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে আদালতের রায় অমান্য করার কোন সুযোগ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিসিআই’র অন্য আরেক সহ-সভাপতি বলেন, ‘আমরা জানি না এই মুহূর্তে কি করা উচিত। আদালত এখনও সরাসরি কোন নির্দেশ দেয়নি। এটা এখন সম্পূর্ণই তার (শ্রীনিবাসন) উপর নির্ভর করছে। আদালত তাকে বলেছে সরে দাঁড়াতে। তবে আদালত চাইলে তাকে বাধ্যও করতে পারে। সব কিছু মিলে আমি বলবো এটা বিসিসিআই’র জন্য মোটেই ভাল ইঙ্গিত নয়।’
যদিও, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই শ্রীনিবাসন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রীম কোর্টে দুটি রিপোর্ট পেশ করে মুদগল কমিটি। প্রথম রিপোর্টটিতে তদন্তের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান হয় আদালতকে।
