বায়ার্ন মিউনিখ রেকর্ড সাত খেলা হাতে রেখেই জার্মানির বুন্দেশলিগায় ২৪তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো। মঙ্গলবার রাতে হার্থা বার্লিনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এ কৃতিত্ব দেখায় পেপ গার্ডিওলার কোচিংয়ে থাকা দলটি। টনি ক্রুস, মারিও গোটজে ও ফ্রাংক রিবেরি গোল তিনটি করলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সাথে অনতিক্রম্য ২৫ পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে বায়ার্ন। বুন্দেশলিগার তথা জার্মানির সর্বোচ্চ ফুটবল লিগটির ৫১ বছরের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে এটা নতুন নজির।
গার্ডিওলা তার কোচিং ক্যারিয়ারে অনেক সাফল্য পেয়েছেন। তবে বায়ার্নে কোচিং করাতে এসে প্রথম বছরেই জার্মান জায়ান্টটির প্রতিদ্বন্দ্বীদের এতটা পেছনে ফেলে শিরোপা তুলে নেয়া বড় ঘটনা। নইলে ৪৩ বছর বয়সী স্প্যানিশটির আগেকার সাফল্যও কম নয়। জার্মান ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার আগে বার্সেলোনার হয়ে তিনটি লা লিগা ও দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি। এ কারণেই জয়টির পর গার্ডিওলা নিজেও বায়ার্নের মাঠ অলিম্পিক স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের সাথে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভেসে যান।
মিডফিল্ডার ক্রুস ১৪ মিনিটের সময় থমাস মুলারের ক্রস থেকে এগিয়ে দেন বায়ার্নকে। গোটজে এরপর বাস্টিয়ান শোয়েনস্টেইগারের ক্রসে ব্যবধান ২-০ করেন। আড্রিয়ান র্যামোসের পেনাল্টিতে হার্থা ব্যবধান কমিয়ে এনেছিল। কিন্তু রিবেরির লব বায়ার্ন সমর্থকদের আনন্দে আত্মহারা করে দেয়।
গার্ডিওলা বলেন, ‘আমি সন্তুষ্ট যে, আমরা এটা করতে পেরেছি। এই ক্লাবের জন্য আরেকটি ট্রফি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এক খাবো এবং উদযাপন করবো। কারণ যখন আপনার সময় কম, সে সময়টা উপভোগ করা উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার এখানে আসা এবং এই অসাধারণ খেলোয়াড়দের সাথে কাজ করতে দেয়ার জন্য ক্লাবকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা ৩০ মিনিট সত্যি অসাধারণ খেলেছি। আমরা গতিশীল ছিলাম। তবে ব্যাপারটাকে সহজভাবে নিয়ে মাঠের সবটাই কাজে লাগাই। আমরা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। তবে কখনো কখনো আক্রমণ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।’
জয়ের আনন্দের মধ্যেও স্প্যানিশ কোচটি অবশ্য তার পূর্বসুরী ইয়াপ হেইঙ্কসের প্রতি সম্মান জানাতে ভুলেননি। কেননা তার রেকর্ডটি ভেঙ্গেই বায়ার্নকে নতুন উচ্চতায় তোলেন তিনি। হেইঙ্কস দলটিকে ছেড়ে যাওয়ার আগে গেল এপ্রিলে দ্রুততম সময়ে বুন্দেশলিগা ও লিগ কাপের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতান বায়ার্নকে।
এ ব্যাপারে গার্ডিওলা বলেন, ‘আমরা কঠোর পরিশ্রমের সুবাদেই শিরোপা জিতেছি। আপনি যখন দেখবেন গেল মৌসুমে ইয়াপ হেইঙ্কস কিভাবে অর্জনগুলো সম্ভব করেছেন সেসময়ে আমাদের সামনে কেবল আরো ভাল করার পথটাই অবশিষ্ট থাকে। তিনিই ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন।’
হার্থা বার্লিনের বিরুদ্ধে বায়ার্নের জয়টি ছিল বুন্দেশলিগায় টানা ১৯তম। এমনিতে দলটি লিগে ৫২ খেলায় অপরাজিত আছে। শোয়েনস্টেইগারের জন্য এটি হলো সপ্তম শিরোপা। শুধু তাই নয়, এখনো তাদের সামনে সুযোগ আছে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বুন্দেশলিগা মৌসুম অপরাজিতভাবে শেষ করার।
স্প্যানিশ কোচটির অবশ্য বেশি আনন্দ করার সুযোগ নেই। কেননা এখন তাকে আগামী সপ্তাহের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরটির শেষ আটে ব্যাভারিয়ান ক্লাবটির প্রতিপক্ষ হলো ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
বুন্দেশলিগারও আগে মাত্র নয় মাসের দায়িত্বকালে কোচটি বায়ার্নকে উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। কাজে চলতি মৌসুমে সব কিছু ঠিকঠাক মতো এগোলে গার্ডিওলার দল পাঁচটি শিরোপাও জিততে পারে। তার আগে অবশ্যই তার সমস্ত মনোযোগ থাকবে ইউরোপীয় কাপটির শিরোপা ধরে রাখা।
প্রতিক্রিয়া
জার্মানির কোচ জোয়াকিম লোয়ে এ খেলাটিতে স্টেডিয়ামেই ছিলেন। তিনি বলেন বায়ার্নের এ সাফল্য কেবল জুনে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে জাতীয় দলকেই সাহায্য করতে পারে। লোয়ে বলেন, ‘এত আগাম শিরোপা জয় অবিশ্বাস্য এক অর্জন। গার্ডিওলা দলটিকে আরো উন্নত করেছেন এবং দাপট ও বলের দখল বজায়ের বিচারে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন। বায়ার্নের আছে এমন এক মানসিকতা যা শর্তহীন সাফল্য চায়।’
দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড কোচ য়ুর্গেন ক্লপও গার্ডিওলাকে অভিনন্দন জানান। ক্লপ বলেন, ‘যেভাবে তুমি এগিয়ে গেছ এটা অবিশ্বাস্য। তুমি এতটাই এগিয়ে যে, তোমাকে খুঁজে পেতে আমাদের টেলিস্কোপ দেখা দরকার। এটা অসাধারণ অর্জন।’
