বাঘের ভয়ে পেশা বদলাচ্ছে বনজীবীরা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৮
রমনী বিশ্বাস (৪৫)। সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলাধীন জিউধরা গ্রামের বাসিন্দা। আদি পেশা সুন্দরবনের কাঁকড়া ও কাঠ আহরণ করে জীবন জীবিকানির্বাহ করা। ছোটবেলায় বাবার সাথেই সুন্দরবনে যেত। এখন সুন্দরবনের আদি পেশা ছেড়ে বিভিন্ন হাট-বাজারের ফুটপাতে তরি-তরকারির ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছে। ‘বাঘের ডর আর ডাকাইতের পারপিটের ভয়ে এহন আর সুন্দরবোনে মোরা যাইনা’। একই গ্রামের শুশান্ত মিস্ত্রিকে বাঘে ধরে নেয়ার দৃশ্য নিজ চোখে দেখার পর কাঁকড়া ও কাঠ আহরণের অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে রমনী বিশ্বাস। তার মতো অনেকেই সুন্দরবনের আদি পেশা ছেড়ে দিয়েছে। চা বিস্কুটের দোকানদার পল্টু খান জানায়, পেটের তাগিদে সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রবেশ করতাম। এখন এ বেসকরারি সংস্থার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পেয়ে দোকানদারি করে সংসার চালাচ্ছি্। হেরা মোগো ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার জন্য ব্যাগ, ড্রেস, বই, খাতা, কলম, পেন্সিলসহ বিভিন্ন উপকরণ ও পরীক্ষার ফিস প্রদান করছে। শীতের সময় শীতবস্ত্র প্রদান করেছে। এভাবে হাজার হাজার লোক সুন্দরবনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, এরা অবৈধভাবে সুন্দরবনের প্রবেশ করে ধ্বংস করছে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ। সরকারিভাবে এদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ রক্ষা করা একান্ত জরুরি।