ক্রিকেটাররাও ছিলেন লাখো কণ্ঠে

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২২:০৪
হয় খেলা, না হয় অনুশীলন; বছরের শুরু থেকে এই চক্র চলছে তো চলছেই। অবশেষে কাল একটা দিন ছিল ছুটির দিন। ঠিক ছুটির দিন নয়, এটাকে বলা চলে সারা দেশের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার দিন। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গতকাল স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রায় তিন লাখ মানুষ মিলে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে করেছেন বিশ্বরেকর্ড। দুনিয়া কাঁপানো এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্ম হয়েছিলেন কাল ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের সব ক্রিকেটার, কর্মকর্তারা, কোচিং দল থেকে শুরু করে সাংবাদিকরা; সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে গাইলেন জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীত, সে যে সময়ই হোক গাওয়াটা যে একটা অনেক বড় অনুপ্রেরণা সেটাই বলছিলেন খেলোয়াড়রা। মাশরাফি বিন মুর্তজা যেমন বলছিলেন, ‘জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় অবশ্যই সবার ভেতরে অন্যরকম ফিলিংস তৈরি হয়। আজকেও সেটা হয়েছে। সবাই একসঙ্গে গানটা গেয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা মাঠের ভেতরে গানটা গেয়েছি। সুতরাং খুবই ভালো লাগছিল। কারণ আমি যেটা বলতে চাই, খেলার আগে জাতীয় সঙ্গীত আরও বেশি উজ্জীবিত করে আমার মনে হয়। কারণ এরপর পরই আমরা মাঠে খেলতে নামি। এই গানটা উজ্জীবিত করে অনেক।’ সেই জাতীয় সঙ্গীতের এই বিশ্বরেকর্ড করা আয়োজনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায়ও অনেক আনন্দের একটা ব্যাপার দেখছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, ‘এরকম একটা ভালো কাজের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। যে যেদিক থেকেই হোক, যে পেশা থেকেই হোক, দেশের সবাই চেষ্টা করেন বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে। আমরা একটা পেশায় আছি। আশা করবো ভবিষ্যতে যেন আমরা আরও ভালো ভাবে দেশটাকে তুলে ধরতে পারি।’ তবে এইসব কথাতেই শুধু আটকে থাকলো না কথোপকথন। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ অবধারিতভাবেই এলো। আর সে প্রসঙ্গে মাশরাফি বললেন, ‘ম্যাচ হারের পর একটা যে কোনো বিভাগকে দায় দেয়া ঠিক না। সবগুলো দিক থেকেই আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল। বিশেষ করে ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংটা আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। তাহলে হয়তো ম্যাচটা আমরা জিততেও পারতাম বা আরেকটু ভালোও খেলতে পারতাম।’ হংকং ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দুই বিপর্যয়ের পর দলের কাছ থেকে এখন মান বাঁচানো খেলা দেখলেই খুশী দর্শকরা। তবে মাশরাফি বললেন, প্রথম লক্ষ্য ভালো খেলা এবং জয়ও পাওয়া, ‘খেলোয়াড় হিসেবে বলব না যে জেতার জন্য নামব না। অবশ্যই ইতিবাচক থাকব এবং জেতার জন্যই নামব। সর্বপ্রথম আমাদের যেটা করা উচিত আমাদের বেসিক ঠিক করা এবং আমাদের যেটা পরিকল্পনা থাকবে সেটা যদি খেলতে পারি তাহলে হবে। গত ম্যাচে যেটা খেলেছি সেটা খেললে জিততে পারবো না। আমাদের প্রথম উদ্দেশ্যটা থাকবে ভালো খেলা। হয়তো বা উদ্দেশ্যটা তৈরি হবে।’