কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল ‘পাঠাও’ চালক ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ০০:৩৭

রাজধানীতে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল মেহেদী হাসান (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর। গতকাল বুধবার বনশ্রী এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী মেহেদীর মাথা পিষ্ট করে দিয়ে চলে যায় কাভার্ডভ্যানের চাকা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি ঢাকা কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’-এর মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান গতকাল রাত ১২টার দিকে বলেন, বনশ্রীতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ী কাভার্ডভ্যানটি জব্দ ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা থানায় এসেছেন। একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে কাভার্ডভ্যান চালককে আসামি করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের ছাত্র ছিলেন মেহেদী হাসান। তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় থাকতেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বনশ্রীর আল-রাজী হাসপাতালের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়েন। এরপর কাভার্ডভ্যানের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে থেঁতলে যায় তার মাথা। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় কাভার্ডভ্যান চালককে আটক করে এবং মেহেদীর লাশ খিলগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পরে রাত ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। লাশটি বর্তমানে সেখানে আছে।

নিহতের ভাই মিরাজ জানান, ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন মেহেদী। তার বাবার নাম আবদুস সোবহান হাওলাদার। গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগর থানার হোগলাবুনিয়া এলাকায়।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় দায়ী ভ্যানচালককে খিলগাঁও থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেননি। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় রাস্তায় যানবাহনের চাপ ছিল। খুব ধীরগতিতে চলছিল তার কাভার্ডভ্যান। আর মেহেদী হাসান তার ভ্যানের ডান পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেননি।