সাধারণত মাশরাফি বিন মুর্তজা মানেই একটা বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, প্রাণের বন্যা। কিন্তু গতকাল সেই মাশরাফিই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হলেন যেন বিধ্বস্ত এক চেহারা নিয়ে। তবে চোখ-মুখ যা-ই বলুক, মাশরাফি মুখে বলছেন এখনও লড়াইয়ে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। আপাতত জয়-টয় নয়, ভালো খেলে লড়াইয়ে ফেরার সেই স্বপ্ন নিয়েই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন দলের সিনিয়র এই খেলোয়াড়—
দলের পিঠ তো একরকম দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন প্রত্যাশাটা কী দলের কাছ থেকে?
শেষ দুটি ম্যাচ আমরা যেভাবে হেরেছি তা অবশ্যই ভীষণ হতাশাজনক। আমাদের লক্ষ্য ভালো খেলা। আমরা চেষ্টা করবো যতটা সম্ভব লড়াই করার। অবশ্যই আমাদের চেষ্টা থাকবে জয়ের জন্য খেলা।
বিসিবি সভাপতি নাকি আপনাদের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর কথা বলেছেন। এটা একটু বলবেন?
এই বিষয়ে এখানে মন্তব্য করা কঠিন। তবে দল এভাবে দুটি ম্যাচ হারলে কথা হওয়াটাই স্বাভাবিক। খেলোয়াড় হিসেবে এটা মেনে নিতেই হবে। চেষ্টা করতে হবে সামনের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। তিনি আমাদের বকাবকি কিছু করেননি, বুঝিয়েছেন। চেষ্টা করছেন সবাইকে যতটুকু সাহায্য করা যায়।
কয়েক মাস আগেও যে কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের কথা ভাবতেন আপনারা। এখন ভালো খেলার কথা বলছেন। পিছিয়ে গেল সবকিছু?
এখনও আমরা জেতার জন্যই নামবো। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, একটা দল যখন খারাপ খেলে তাদের চেষ্টা থাকে সেখান থেকে একটা ভালো অবস্থানে আসার জন্য। আমরা শেষ দুটি ম্যাচ অবশ্যই স্বীকার করতে হবে বাজেভাবে হেরেছি। তাই বলছি প্রথম চেষ্টা থাকবে লড়াই করা। লড়াই করতে পারলে ভালো খেলতে পারবো। অন্যথায় গত দুটি ম্যাচ ম্যাচ যেভাবে খেলেছি তাতে আমরা প্রত্যাশা করতে পারি না আমরা জিতবো।
বিসিবি সভাপতি এটাও বলেছেন যে, বিশ্বকাপের পরে দলে অনেক পরিবর্তন আসবে। টুর্নামেন্ট বলা অবস্থায় এটা কী দলের মনোবল আরো ভেঙে দেবে?
এটা নিয়ে কথা বলা খুবই কঠিন। আমরা শেষ দুটি ম্যাচে যা খেলেছি, সেটা যে কারও পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন। সুতরাং এরকম একটা কথা আসতেই পারে। এটা বরং আমাদের ইতিবাচক ভাবে নিতে হবে। আমাদের মাঠে গিয়ে ভালো খেলতে হবে।
আসলে আমাদের বাস্তব সম্ভাবনা কী, বাকী তিন ম্যাচে?
জয়ের সুযোগ অবশ্যই আছে। এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। কিছু ভুলের জন্য আমাদের বড় হার মেনে নিতে হয়েছে। আমরা মাঠে গিয়ে ভুল সুধরে যদি খেলতে পারি আমাদের জয়ের সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ বিস্ময়করভাবে স্পিন খেলতে পারছে না। ভারত এই মুহূর্তের অন্যতম সেরা স্পিন আক্রমণ নিয়ে নামবে। সেটা সামলানো কতোটা সম্ভব?
অবশ্যই সম্ভব। আমার মনে হয় না অসম্ভব বলে কিছু আছে। এই মুহূর্তে সব কিছুই খুব কঠিন মনে হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, আমরা একটা ভালো শুরু করতে পারলে সব কিছু খুব সহজ হয়ে যাবে।
আপনার তো সবসময় একটা দলকে অনুপ্রেরণা দেয়া ভূমিকা থাকে। সেটা কী এখন করতে পারছেন?
আমার প্রথম ভূমিকা একজন খেলোয়াড়ের। বাকী আমার ভূমিকা যা থাকে, প্রতিটি খেলোয়াড়েরও তাই থাকে। শুধু একজন অধিনায়ক একা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ তৈরি করতে পারে না। সবারই সমানভাবে কাজ করতে হয়। আর বিশেষ করে খারাপ সময়ে সবার এক সঙ্গে থাকা তো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময় টিমের সবাই এক সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আমি খুশি, দলের সবাই এক সঙ্গে আছে।
