বাকি সবাই নেটে ব্যাটিং-বোলিং করছেন। আরেক পাশে ফিল্ডিং অনুশীলন করে চলেছেন নাসির, মুমিনুল ও সাব্বির। এর মাঝে রাবারের একটা স্ট্যাম্প রেখে সমানে বল করে যাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক। বেশিরভাগ বল এক স্ট্যাম্প মিস করছে, মাঝে মাঝে একটা বল বাঁক নিয়ে আঘাত করছে স্ট্যাম্পে।
এই স্ট্যাম্পে বল লাগা বা মিস করায় এতোটুকু বিকার নেই যেন রাজ্জাকের। শুধু বল করা কাজ, তাই যেন করে যাচ্ছেন!
মনে হতে পারে, দীর্ঘকাল পর ছোট দৈর্ঘের ক্রিকেট দল থেকে বাদ পড়ায় রাজ্জাক বুঝি কষ্টে এমন নির্বিকার হয়ে গেছেন। আসলে একটু চোখ বোলালে দেখা যাবে, পুরো বাংলাদেশ দলই নির্বিকার, ভাবলেশহীন। হংকংয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ধসে পড়া মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের এমন নির্বিকার হয়ে পড়ার ব্যাখ্যাটা পাওয়া যায়।
তবে এখানে আটকে থাকলেই তো চলছে না। ক্রিকেট বা জীবন, কোনোটাই পরাজয়ে থেমে যাওয়ার নয়। আবারও উঠে দাঁড়াতে হচ্ছে এখান থেকে। আবারও ফিরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা নিয়েই আজ ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামতে হবে; সে প্রতিজ্ঞা সফল হোক আর নাই হোক, লড়াই করতেই হবে।
আর এই লড়াই করার জন্যই মাঠের বাইরে অন্তত চেষ্টার কমতি রাখছে না বাংলাদেশ। অনুশীলনে জোর দেয়া, পরস্পরকে চাঙ্গা করার চেষ্টা; নানারকম কৌশলই চলছে। সেই সঙ্গে আজ হয়তো আরও একবার একাদশে অন্তত গোটা দুই পরিবর্তন এনে চেষ্টা করা হবে দলটাকে কার্যকর করার।
এই কার্যকর করার শেষ চেষ্টা হিসেবেই আজ দলে ঢুকতে পারেন এখন পর্যন্ত বাইরে বসে থাকা ইনফর্ম টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সামসুর রহমান। শুভ ডাক নামের এই তরুণ ব্যাটসম্যান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে একটি সেঞ্চুরিসহ ১৯৩ রান করে দারুণ শুরু করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রানের ইনিংস দিয়ে ওয়ানডে যাত্রা শুরু করার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ও এশিয়া কাপেও রান পেয়েছেন। গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শুরুতেই টি-টোয়েন্টিতেও ফিফটি পেয়েছেন।
কিন্তু ‘টিম কম্বিনেশন’-এর কারণে মূলত মারকুটে এই ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই এখনও একাদশে ঠাঁই পাননি তিনি!
অবশেষে শুভর কপালটা আজ যে খুলতে যাচ্ছে, সেটা একরকম নিশ্চিত। আর তাকে জায়গা করে দিতে আজ সরে যেতে হতে পারে আরেক মারকুটে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান রুম্মনকে। রুম্মন নেপালের বিপক্ষে অপরাজিত ২১ রানের একটা ইনিংস খেললেও এই ক’ ম্যাচে টানা সুযোগ পেয়েও এখনও পর্যন্ত সেরকম দাগ কাটার মতো কিছু করতে পারেননি। ফলে ছিটকে তাকে যেতেই হতে পারে।
আজ ছিটকে যাওয়া একরকম নিশ্চিত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রিয়াদ পরের ম্যাচের একাদশে আর থাকছেন না। থাকার মতো পারফরম্যান্স অনেক জোরাজুরি করেও তার কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। নিতান্ত ফর্মের বাইরে থাকায়ই এশিয়া কাপের স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছিলেন। পরে নেপথ্যে অনেক নাটকীয় ঘটনার পর সোহাগ গাজীর ইনজুরিতে দলে ফিরেছিলেন তিনি। তারপর থেকেও মাহমুদউল্লাহর সেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স চলছেই।
প্রশ্ন হল, রিয়াদ বাদ পড়লে দলে ঢুকবেন কে?
এখানে দলের আসলে বাছাই করার মতো খেলোয়াড়ও অনেক কমে গেছে। বাইরে যারা আছেন, তারা ফর্মের কারণেই বাদ পড়া খেলোয়াড়—নাসির হোসেন, ফরহাদ রেজা ও আব্দুর রাজ্জাক। এর মধ্যে নাসির হোসেনকেই এক ম্যাচ পর আবার ফেরানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এক ম্যাচ পরই হতাশা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন নাসির।
এখন দলে বদল যাই হোক; শেষ পর্যন্ত এরাই বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার। ফলে যা করার তাদেরই করতে হবে।
