বোলিংটা ভাল হলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এক ব্যাটিং দিয়েই হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজকের ম্যাচে প্রতিপক্ষটা আরও শক্ত - ‘ইংল্যান্ড’। তাই এই ম্যাচের আগে নিজেদের ব্যাটিং নিয়েই ভাবছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
বিশ্ব টি-টোয়েন্টির আসরে বাংংলাদেশ নবীন হলেও ইংল্যান্ড প্রথম থেকেই খেলে আসছে। তাই অভিজ্ঞতার বিচারে নি:সন্দেহে বেশ খানিকটাই এগিয়ে আছে ইংলিশরা। কিন্তু স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ নিজেদের প্রমাণে এখনো এগিয়ে না আসলেও টুর্নামেন্টটি যেহেতু টি-টোয়েন্টি তাই নিজেদের দিনে সঠিক পরিকল্পনা যেকোন সময়ে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিতে পারে বলে সকলের বিশ্বাস।
ঠিক যেমনটি হয়েছিল একদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারদের নিয়ে সাজানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিয়ে সালমা, ফাহিমা, কুবরারা যেভাবে মাত্র ১১৫ রানে অল আউট করতে সক্ষম হয়েছিল তাতে আশা না জেগে উপায় নেই। যদিও ব্যাটিংয়ে সেই পুরানো ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৩৬ রানের হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে সালমারা। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে খোদ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কও প্রশংসা করতে ভুল করেনি। মহিলাদের ক্রিকেটে অন্যতম সফল এই অধিনায়ক মেরিসা আগুইলেইরা ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রমেই উন্নতি করছে। টি-টোয়েন্টিতে কোন দলকেই খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই। সেটাই আজ বোলিংয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের একেবারেই নবীন দলটির সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য নি:সন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।’
২০১১ সালে ওয়ানডে অভিষেক হবার পরে উপ-মহাদেশীয় ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রথম মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর তাই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোন ধারণা না নিয়েই কাল লড়াইয়ে নামবে স্বাগতিকরা। আজ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন পর্বের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেন, ‘বোলিং-ফিল্ডিং মন্দ নয়, ব্যাটিংটাই হচ্ছে না। এ ম্যাচের আগে আমরা ব্যাটিং নিয়ে বিশেষ কাজ করেছি। ভাল করতে হলে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে।’ পরাশক্তি ইংল্যান্ডের তিন বিভাগেই দারুণ সমন্বয়। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক প্রতিপক্ষের বোলিং বিভাগকেই এগিয়ে রাখছেন। বলেছেন, ‘ইংলিশরা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে, অনবরত অফ স্ট্যাম্পের ওপর বল করতে দেখা যায় তাদের। আমরা এ নিয়ে বিশেষ কাজ করেছি।’
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক চার্লোত্তে এডওয়ার্ড মহিলাদের ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম সেরা একটি নাম। টি-২০ এবং ওয়ানডে ইতিহাসে তিনি সকলের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে আসার আগে ইংল্যান্ডের হয়ে ৭২টি টি-২০ ম্যাচে ৩২.০১ গড়ে তার রান সংখ্যা ছিল ১৯২১। ওয়ানডেতে ৩৭.২০ গড়ে তার সংগৃহীত রান ৫৪৩২। অভিজ্ঞতা এবং পরিসংখ্যানের দিক থেকে বাংলাদেশের তুলনায় অনেকাংশেই এগিয়ে থাকার পরে এডওয়ার্ড বাংলাদেশ সম্পর্ক সতর্ক বার্তাই ছুঁড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে শ্রীলংকার বিপক্ষে মহিলা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে পরাজিত হবার স্মৃতি মনে করে এডওয়ার্ডস বলেছেন, আমরা ইতোমধ্যেই গত বছর একবার পরাজিত হয়েছি। এছাড়া আরো দু’টি ম্যাচেও আমরা কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলাম। আর তাই বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্টে খেলতে আসা সব দলই কঠিন। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, কাউকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামলে আমরা যেমন পরিকল্পনা করে নামি সেই একই চিন্তা-ভাবনা কালও থাকবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৯ রানে পরাজিত হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে ভালভাবেই টুর্নামেন্টে ফিরে এসেছে ইংলিশরা। পিঠের ইনজুরির কারণে ক্যাথেরিন ব্রুন্ট মাঠের বাইরে থাকলেও দুই পেসার আনিয়া শ্রুবসোল এবং জেনি গান ভারতীয় টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এই দুই পেসার মিলে ৬ উইকেট তুলে নেয়। তবে ব্যাটিং নিয়ে এখনো সন্তুষ্ট হতে পারছে না ইংল্যান্ড। সারা টেইলর এখনো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। টপ অর্ডার নিয়েও দু:শ্চিন্তা রয়েছে।— বাসস
